কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে দুর্গাপূজা উপলক্ষে তৈরি করা প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার পর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খয়েরচারা মাতৃমন্দিরে এ ঘটনা ঘটে। এতে গণেশ, লক্ষ্মী ও দুর্গার বাহন সিংহের প্রতিমার বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও মন্দিরসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সূত্রে জানা যায়, খয়েরচারা মাতৃমন্দিরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছিল। গতকাল রাতে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করেন কারিগর অধীর বিশ্বাস। কাজ শেষ করতে রাত ২টা বেজে যায়। এ সময় তাঁর সঙ্গে আরও চারজন মন্দিরে উপস্থিত ছিলেন। কাজ শেষে প্রতিমাগুলো ঢেকে রেখে তাঁরা বাড়ি ফিরে যান। সকালে মন্দিরে এসে প্রতিমার বিভিন্ন অংশ ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান তাঁরা।
মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক কৌশিক বিশ্বাস জানান, রাত ২টা পর্যন্ত তাঁরা মন্দিরে ছিলেন। কারিগর অধীর বিশ্বাস প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করার পর সবাই প্রতিমাগুলো ঢেকে রেখে বাড়ি ফিরে যান। সকালে এসে প্রতিমা ভাঙচুরের বিষয়টি জানতে পারেন। তাঁদের ধারণা, রাত ২টার পর এ ঘটনা ঘটেছে।
কৌশিক বিশ্বাস আরও জানান, দুর্গাপূজা সামনে রেখে এমন ঘটনায় তাঁরা আতঙ্কিত। কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তাঁরা নিশ্চিত নন।
খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। আজ শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কুষ্টিয়া-৪ (খোকসা-কুমারখালী) আসনের সংসদ সদস্য আফজাল হোসেন। তিনি প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
আফজাল হোসেন বলেন, ‘কুমারখালীতে আমরা সবাই একসঙ্গে বসবাস করছি। ইতিপূর্বে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে আমার জানা নেই। ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর আমি নিজে মোটরসাইকেলে বিভিন্ন মন্দির পাহারা দিয়েছি। আজকে যারা এ কাজটি করেছে, তারা ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে। যার যার ধর্ম, সে সে স্বাধীনভাবে পালন করবে। কারও ধর্মে আঘাত করা ইসলাম বরদাশত করে না।’
আফজাল হোসেন আরও বলেন, মন্দির ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে জরুরি ভিত্তিতে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাভিদ সারোয়ার বলেন, রাত ২টা পর্যন্ত মন্দিরে লোকজন ছিলেন। এরপর ঘটনাটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, ঘটনাটি কোনো অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে ঘটেছে কি না কিংবা এর সঙ্গে বাইরের কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। মন্দিরে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা খুলে রাখা হয়েছিল।
কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ জানান, তাঁরা ঘটনাটি জানতে পেরে সেখানে পুলিশ পাঠিয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুর্গাপূজার আগে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ও পূজামণ্ডপে বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন মন্দিরসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।