ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ভাড়ায়চালিত বাস ‘শানে খোদা’র ধাক্কায় আইন বিভাগের এক শিক্ষার্থীর বাবা মারা গেছেন। এ ঘটনায় প্রতিবাদে আজ রোববার দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে মানববন্ধন করেছেন আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। পরে তাঁরা উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেন। এ সময় তাঁরা নিহতের পরিবারকে ৬০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ, শিক্ষার্থী লিখনের শিক্ষাজীবনের যাবতীয় দায়িত্ব প্রশাসনের নেওয়াসহ ছয় দফা দাবি জানান।
শিক্ষার্থীদের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—সুষ্ঠু তদন্তের ভিত্তিতে অভিযুক্ত চালক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা; ক্যাম্পাসসংলগ্ন মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে ট্রাফিক ব্যবস্থা জোরদার এবং চালকদের গতি নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ নেওয়া; নিহতের পরিবারকে কমপক্ষে ৬০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী লিখনের শিক্ষাজীবনের যাবতীয় দায়িত্ব প্রশাসনের নেওয়া; পরিবহনসংক্রান্ত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ গ্রহণ ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থায়ী মনিটরিং সেল গঠন; বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি, চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স যাচাই ও নিয়মিত ডোপ টেস্ট নিশ্চিত করা এবং ভাড়া বাসের গতিসীমা লঙ্ঘন ও উল্টোপথে গাড়ি চালানোর অভিযোগ প্রমাণিত হলে চুক্তি বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া।
জানা যায়, নিহত মনোয়ার হোসেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী লিখন ইসলামের বাবা। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলের ভাড়াকৃত বাস ‘শানে খোদা’ দ্রুতগতিতে চলার সময় সড়ক বিভাজকের উল্টো পাশ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে মোটরসাইকেল আরোহী মনোয়ারকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় চালক বাসটি ফেলে পালিয়ে যান।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, তার বাবার মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেনকে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো আমরা বিবেচনা করছি।
তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিতে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেনকে আহ্বায়ক, পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক ড. শেখ মোহাম্মদ আব্দুর রউফকে সদস্যসচিব এবং প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামানকে সদস্য করা হয়েছে।