হোম > সারা দেশ > কুষ্টিয়া

কলকাতায় নিহত ৭ বাংলাদেশির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন, ফেরার অপেক্ষায় স্বজনেরা

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

ছেলে, পুত্রবধূ ও নাতিকে হারিয়ে বিলাপ করছেন নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের মা স্বপ্না দত্ত। ছবি: আজকের পত্রিকা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখা ইনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তসহ সাত বাংলাদেশির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত করা হয়। দুই দেশের আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হলে মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হবে।

মরদেহ হস্তান্তর বা দেশে পাঠানোর আগপর্যন্ত সেগুলো কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষণ করা হবে।

এ ঘটনায় হোটেলটির ইজারাদার আবু জাফরকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। হোটেলের দুই কর্মীকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। আবু জাফর জোড়াসাঁকোর বাসিন্দা বলে আজকের পত্রিকাকে জানিয়েছেন আনন্দবাজার পত্রিকার সাংবাদিক সিজার মণ্ডল।

গতকাল বুধবার ভোরে হোটেলটিতে অগ্নিকাণ্ডে দমবন্ধ হয়ে ৯ জনের মৃত্যু হয়। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশের সাতজন রয়েছে।

নিহত বাংলাদেশিরা হলো কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়া এলাকার দেবাশীষ দত্ত (৩৯), তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৭), তাঁদের তিন বছরের ছেলে স্বর্ণশীষ দত্ত ও দেবাশীষের শ্বশুর আকরাম হোসেন (৬৪)। এ ছাড়া রয়েছেন ঢাকার সাভারের আমিনবাজার এলাকার বেগুনবাড়ির আহমেদ বাবু (৪০), সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার আলিমুজ্জামান সাজু (৪৫) ও রেবতী সরকার।

আজ বিকেল ৪টার দিকে নিহত সাংবাদিক দেবাশীষের আত্মীয় ও ভারতের মালদহের বাসিন্দা কৃষ্ণ নন্দী জানান, দেবাশীষ দত্তসহ পরিবারের চারজনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তাঁরা কলকাতায় বাংলাদেশের উপহাইকমিশনে গেছেন। এর আগে সকালে কলকাতার নিউমার্কেট থানা থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করেছেন।

কৃষ্ণ নন্দী বলেন, দুই দেশের আইনি প্রক্রিয়া যত দ্রুত শেষ হবে, তত দ্রুত মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হবে। তবে আগামীকাল শুক্রবারের আগে মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হবে না বলে তিনি ধারণা করছেন।

ভারতে মরদেহসংক্রান্ত সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশে পরিবারের সদস্যদের সীমান্তে আসতে বলা হবে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি।

কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়া এলাকার ভাড়া বাসায় থাকত দেবাশীষ দত্ত ও তাঁর পরিবার। দেবাশীষের বাবা দিলীপ দত্ত বলেন, ‘ছেলে, পুত্রবধূ ও নাতির মরদেহের অপেক্ষায় দিন কাটছে। পরিবারের পুরুষ সদস্য বলতে এখন আমিই একা। বুকের ভেতর তীব্র কষ্ট থাকলেও তা প্রকাশ করতে পারছি না।’

দেবাশীষের বাড়ির সামনে কথা হয় তাঁর সহকর্মী ও স্টার নিউজের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জহুরুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, সাংবাদিক হিসেবে প্রতিদিন নানা ঘটনা তুলে ধরতে হলেও এবার নিজের সহকর্মীর মৃত্যুর খবর বলতে হচ্ছে। এটা খুবই কষ্টের। অপেক্ষা করা ছাড়া এখন আর কিছুই করার নেই।