হোম > সারা দেশ > কুষ্টিয়া

বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকীতে পোস্ট: ইবিতে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের হেনস্তা ও কক্ষ ভাঙচুর ছাত্রদলের

ইবি সংবাদদাতা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষক-কর্মকর্তাদের হেনস্তা, মারধরের চেষ্টা ও কক্ষ ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পাঁচ শিক্ষক-কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মকর্তা ফেসবুকে শ্রদ্ধা জানিয়ে পোস্ট দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শাখা ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা এদিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রশাসন ভবনের উপ-রেজিস্ট্রার ইব্রাহিম হোসেন সোনার কক্ষ ভাঙচুর ও তাকে হেনস্তা করেন। পরে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের কর্মকর্তা টিটুল আহমেদকে হুমকি ও মারধরের চেষ্টা এবং টিএসসিসির সহকারী রেজিস্ট্রার বিপুল আহমেদকে হুমকি ও তার টেবিল ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া যায়।

এ ছাড়া হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শহিদুল ইসলামকে হুমকি, একই বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে হেনস্তা এবং ইইই বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমানকে হুমকি, হেনস্তা ও তাঁর কক্ষে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ভাঙচুর করা হয়।

সংশ্লিষ্টদের ক্যাম্পাসে না আসার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তাদের।

এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন—শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদ তৌফিক ও আব্দুল্লাহ আল মামুন, সদস্য রেজাউল ইসলাম রাকিব, আব্দুল্লাহ আল নোমান, শাহরিয়ার রশিদ নিলয় ও খালেদ সাইফুল্লাহ এবং কর্মী রাহি, সাবিক, উল্লাস মাহমুদ, নাঈম, সিজান ও সাগর আলী ও কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মুক্তাদির আহমেদসহ প্রায় ২৫ জন নেতা-কর্মী।

এ বিষয়ে হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. উম্মে সালমা লুনা বলেন, ‘আমার কক্ষে এসে এ ঘটনা ঘটানো কোনোভাবেই কাম্য নয়। যাওয়ার সময় তারা কয়েকজন শিক্ষার্থীকেও মারধর করেছে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েছি।’

কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের শাখা কর্মকর্তা টিটুল আহমেদ বলেন, “দুপুরের সময় আমি অফিসে বসে ছিলাম। তারা হঠাৎ এসে বলে, ‘তুই মুজিবের মৃত্যুবার্ষিকীতে শোক জানিয়ে পোস্ট দিয়েছিস কেন? তুই আর এখন থেকে ক্যাম্পাসে আসবি না।’ এরপর তারা আমার দিকে একটি প্লেট ছুড়ে মারে এবং মারতে উদ্যত হয়। হুমকি-ধমকি দিয়ে তারা চলে যায়। ”

অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর যেহেতু এই বিভাগের এবং তিনি আমার ছাত্র, সেহেতু তিনিই এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।’

তবে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিথুন বলেন, ‘১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন শিক্ষক ও কর্মকর্তা নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগকে নিয়ে পোস্ট করে শান্ত ক্যাম্পাসকে অশান্ত করার চেষ্টা করেছেন। তা রুখে দিতে ছাত্রদল প্রস্তুত ছিল। যেগুলো আমাদের নজরে এসেছে, আমরা সেগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা নিয়েছি। আজ ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা যারা আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে নিয়ে আসার চেষ্টা করছে তাদের সঙ্গে কথা বলেছে। প্রশাসন যদি ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে আমাদেরই আইন হাতে তুলে নিতে হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে মিটিং করছি। মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট ছাত্রসংগঠনকে ডেকে কথা বলেছি। তারা বিষয়টিতে ভুল স্বীকার করেছে। আমি আশা করছি, তারা ভবিষ্যতে আর এ ধরনের কাজ করবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য আইন রয়েছে। কেউ আইন লঙ্ঘন করলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। কোনো ব্যক্তি বা ছাত্রসংগঠন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তার ওপর চড়াও হতে পারে না।’