হোম > সারা দেশ > কুষ্টিয়া

পদ্মায় বাড়ছে পানি, কুষ্টিয়ায় নৌকা সংস্কারে ব্যস্ত মাঝি ও জেলেরা

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

দৌলতপুরের আবেদের ঘাট এলাকায় নৌকা মেরামতে ব্যস্ত মাঝি ও কারিগরেরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

শুষ্ক মৌসুমের অবসান ঘটিয়ে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় পদ্মায় প্রবেশ করতে শুরু করেছে বর্ষার নতুন পানি। আর এই নতুন পানির আগমনে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে নদীকেন্দ্রিক জনপদে। উপজেলার আবেদের ঘাট এলাকাসহ বিভিন্ন ঘাটে এখন চলছে উৎসবমুখর ব্যস্ততা। বর্ষা মৌসুমে নদীপাড়ের বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল রামকৃষ্ণপুর, চিলমারী ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকার মানুষের যাতায়াত ও জীবিকার প্রধান মাধ্যম নৌকা। তাই নদীতে পানি পুরোপুরি বাড়ার আগেই পুরোনো নৌকা সংস্কার, আলকাতরা লাগানো ও রং করার কাজে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন মাঝি, জেলে ও কারিগরেরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুষ্ক মৌসুমে পদ্মার বুকে জেগে ওঠা বিস্তীর্ণ চরে প্রায় আট মাস ধরে অলস পড়ে ছিল এসব নৌকা। কোথাও বালুচরে আটকে, আবার কোথাও কাত হয়ে পড়ে থাকা জীবিকার এই প্রধান বাহনগুলো এত দিন ছিল অবহেলিত। তবে বর্ষার নতুন পানির ছোঁয়ায় আবারও জেগে উঠছে নদীকেন্দ্রিক জীবন-জীবিকা।

আবেদের ঘাটে সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর তীরে সারবদ্ধভাবে রাখা নৌকাগুলোতে চলছে জোরেশোরে মেরামতের কাজ। কোথাও পচে যাওয়া কাঠ বদলে বসানো হচ্ছে নতুন পাটাতন, কোথাও আবার নৌকার তলা মজবুত করতে লাগানো হচ্ছে আলকাতরা ও নতুন রঙের প্রলেপ। হাতুড়ি, করাত আর পেরেকের ঠুকঠাক শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো ঘাট এলাকা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিরলস পরিশ্রম করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। কারণ, পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হবে যাত্রী পারাপার ও মাছ ধরার ধুম।

রাজশাহী থেকে আসা নৌকা মেরামতের কারিগর মাহাবুল হোসেন বলেন, ‘প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমের আগে আমরা দৌলতপুরে এসে নৌকা মেরামতের কাজ করি। এই মৌসুমে ইতিমধ্যে ১০টি নৌকা মেরামত করেছি, আরও প্রায় ১০টির কাজ বাকি রয়েছে। দৈনিক হাজিরার ভিত্তিতে আমরা কাজ করি।’

আরেক কারিগর ফজলু রহমান জানান, দীর্ঘদিন চরে পড়ে থাকায় অনেক নৌকার কাঠ নষ্ট হয়ে গেছে, সেগুলো পুনর্নির্মাণ করেই তাঁদের সংসার চলে।

নৌকার মালিক রাজন হোসেন বলেন, ‘নদীতে পর্যাপ্ত পানি হলে যাত্রী পারাপারের পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন শুরু হবে। আমরা বছরে মাত্র চার মাস নৌকা চালাতে পারি। বাকি সময় নাব্যতা সংকটের কারণে চর জেগে ওঠে। এই চার মাসের আয় দিয়েই আমাদের সারা বছর চলতে হয়।’

একই কথা জানালেন অপর নৌকার মালিক হোসেন মেম্বার। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘বর্ষায় এই নৌকাই আমাদের একমাত্র ভরসা। তবে বছর শেষে যা আয় হয়, তার বড় অংশই আবার নৌকা মেরামতে চলে যায়। সরকারের কাছে আমাদের আবেদন, নদী খনন করে যেন স্থায়ী নাব্যতা ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়।’

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দৌলতপুর উপজেলার মূল ভূখণ্ড থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষের বর্ষাকালের একমাত্র ভরসা এই নৌপথ। থানা সদর, জেলা শহর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল কিংবা বাজারে যেতে এবং কৃষিপণ্য পরিবহনে এই নৌকা ছাড়া তাঁদের কোনো বিকল্প নেই।

পদ্মায় পর্যাপ্ত পানি আসার এই মুহূর্তে মাঝিদের চোখেমুখে এখন নতুন আশার আলো। নৌ চলাচল স্বাভাবিক হলে একদিকে যেমন চরাঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ সহজ হবে, অন্যদিকে সচল হবে মাঝি, জেলে ও খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের জীবিকার চাকা।

দৌলতপুরে বিদেশি পিস্তল, গুলিসহ যুবক গ্রেপ্তার

কুষ্টিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র-গুলিসহ যুবক আটক, গণপিটুনির পর পুলিশে দিল জনতা

কুষ্টিয়ায় কর অফিসের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে গিয়ে আটক ৪

এবার আমির হামজাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে দুদকে আবেদন

কুষ্টিয়ায় পাথরবোঝাই ট্রাক খাদে উল্টে চালক-সহকারী নিহত

দৌলতপুরে অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ, ঝুঁকিতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও সড়ক

কুষ্টিয়ায় আ.লীগ নেতা আনোয়ার আলীর বাড়িতে অভিযান

মন্ত্রী আসার খবরে যেভাবে দুই ঘণ্টায় বদলে গেল কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের চিত্র

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন, বাথরুমের অপরিচ্ছন্নতায় ক্ষোভ

বিজিবি ও গ্রামবাসীর প্রতিরোধের মুখে পিছু হটল বিএসএফ, ফিরিয়ে নিল ১২ নারী-শিশুকে