কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় বসতবাড়ি থেকে গোখরা সাপ ধরতে গিয়ে সাপের কামড়ে আহত হয়েছেন ইমরান হোসেন (৩৮) নামে এক সাপুড়ে। গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার গোলাপনগর ইউনিয়নের বাগগাড়ি পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত ইমরান হোসেন ভেড়ামারা উপজেলার হিড়িমাদিয়া গোরস্থান পাড়ার মোশারফ হোসেনের ছেলে। বর্তমানে তিনি কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নিজেকে সাপুড়ে ও ওঝা পরিচয় দেওয়া ইমরান বিভিন্ন স্থান থেকে সাপ ধরার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত প্রকাশ করে থাকেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে আমিরুল ইসলামের বাড়িতে সাপ ধরতে যান ইমরান। বাড়ির উঠানের মাটি খুঁড়ে গর্ত থেকে একটি গোখরা সাপ বের করার পর সেটিকে ধরার চেষ্টা করেন। এ সময় অসাবধানতাবশত সাপটি তার হাঁটুর ওপরে কামড় দেয়। পরে স্থানীয় দুই যুবক দ্রুত তাঁকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইমরান হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার আমিরুল ইসলামের একমাত্র ছেলে সম্রাট (২২) সাপের কামড়ে মারা যান। সম্রাটের বিয়ে হয়েছিল দেড় বছর আগে। তাঁর স্ত্রী বর্তমানে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা। সম্রাটের মৃত্যুর পর শুক্রবার বাড়িটিতে আবারও সাপ দেখা গেলে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে আমাকে খবর দেন।’
সাপুড়ে ইমরান বলেন, ‘বাড়ির উঠান থেকে প্রথমে তিনটি বাচ্চা সাপ উদ্ধার করি। পরে গর্ত থেকে একটি বড় গোখরা সাপ টেনে বের করি। সাপটি ধরার প্রায় দেড় মিনিটের মাথায় অসাবধানতাবশত সেটি আমার হাঁটুর ওপরে কামড় দেয়। পরে স্থানীয় দুই যুবক দ্রুত আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। বর্তমানে আমি সুস্থ আছি।’
এদিকে ঘটনার পর ইমরান হোসেনের একটি ভিজিটিং কার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কার্ডে তিনি নিজেকে সাপুড়ে হিসেবে পরিচয় দিয়ে সাপ ধরা ও সাপের বিষ ঝাড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন জটিল ও গোপন রোগের চিকিৎসা করার দাবিও করেছেন।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ইকবাল হাসান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘হাসপাতালে আনার পর ইমরানকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অ্যান্টিভেনম দিয়ে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ইমরানের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে এবং আশঙ্কামুক্ত আছেন।’