কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শহিদ জিয়াউর রহমান হলে কক্ষ বরাদ্দ পেয়েও সিটে উঠতে না পেরে প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন তিন শিক্ষার্থী। আজ শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তাঁরা হলের প্রভোস্ট কক্ষে তালা দিয়ে সেখানে বিছানা পেতে অবস্থান নেন। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাঁরা কর্মসূচি স্থগিত করেন।
অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন আল হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের আবু বকর, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের মোবারক উল্লাহ এবং শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের তানভীর আরিফ। তারা যথাক্রমে ৩২৫, ২১৫ ও ৩২৭ নম্বর কক্ষ বরাদ্দ পেয়েছেন।
ওই তিন শিক্ষার্থীর অভিযোগ, তাঁরা হলের নির্ধারিত নিয়ম মেনে সিট বরাদ্দের জন্য আবেদন করেছেন। পরে ভাইভায় অংশগ্রহণ করে মেধার ভিত্তিতে সিটও পান। তবে কক্ষে গিয়ে তাঁরা কোনো খালি সিট পাননি। বরাদ্দকৃত সিটগুলোতে আগে থেকেই অন্য শিক্ষার্থীরা অবস্থান করছেন। ফলে হল প্রশাসন তাঁদের একই কক্ষে অতিরিক্ত সিট বরাদ্দ দিয়েছে। এ ধরনের সমস্যা আরও কয়েকটি কক্ষের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে বলে অভিযোগ তাঁদের। এ ছাড়া হলের কিছু কক্ষে সিট ফাঁকা থাকলেও সেগুলোতে কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী আবু বকর বলেন, ‘আমি ৩২৫ নম্বর কক্ষে সিট বরাদ্দ পেয়েছি। কিন্তু ওই কক্ষে আগে থেকেই একজন শিক্ষার্থী অবস্থান করছিলেন। পরবর্তীতে একই কক্ষে আরও তিনটি সিট নতুন করে বরাদ্দ দেওয়া হয়। ফলে সেখানে আমার জন্য কোনো সিট খালি নেই। হলে সিট পাওয়ার পর গত মাসেই আমি মেসের সিট ছেড়েছি। এখন হলে উঠতে না পেরে থাকার জায়গা নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছি। এ ছাড়া বর্তমান প্রভোস্টের মেয়াদ আর মাত্র ছয় দিন বাকি রয়েছে। ফলে তিনি চলে যাওয়ার পর নতুন প্রশাসন সিট দেবে কি না, তা নিয়েও শঙ্কার মধ্যে আছি।’
শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তানভীর আরিফ বলেন, ‘আবেদনের পর আমাকে বৈধভাবে একটি রুম বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে সেখানে গিয়ে দেখি, দুই সিটের রুমে ইতিমধ্যে তিনজন শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন। চতুর্থ ব্যক্তি হিসেবে সেখানে থাকার মতো কোনো পরিবেশ নেই। অথচ অনেক রুমে এক-দুইজন বৈধ শিক্ষার্থীর পাশাপাশি অন্য হলের শিক্ষার্থীরা অবৈধভাবে অবস্থান করছেন। এ বিষয়ে হল প্রশাসনের কাছে বারবার অভিযোগ জানালেও তাঁরা কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।’
এ বিষয়ে হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আব্দুল গফুর গাজী বলেন, ‘হলের স্টাফদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে সেই তথ্যে গরমিল থাকায় সিট বরাদ্দে কিছুটা জটিলতা দেখা দিয়েছে। আমি এখন ক্যাম্পাসে নেই। অবস্থান কর্মসূচি সম্পর্কেও কিছু জানি না।’