হোম > সারা দেশ > কুষ্টিয়া

ভেজাল ও নিম্নমানের পাটবীজে ক্ষতিগ্রস্ত চাষি,অভিযোগ বিএডিসির বিরুদ্ধে

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

পাটবীজ কার্যালয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

কুষ্টিয়ায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সরবরাহ করা পাটবীজের গুণগত মান নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের দাবি, ভেজাল ও নিম্নমানের বীজের কারণে তারা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বিতরণ করা এসব বীজে প্রত্যাশিত অঙ্কুরোদগম না হওয়ায় অনেক কৃষকের জমি অনাবাদি পড়ে রয়েছে। তবে অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে বিএডিসির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন হাসান বলেছেন, “চাষিদের দেওয়া পাটবীজে কী ধরনের সমস্যা হয়েছে, তা তদন্তের জন্য একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিদের নিয়ে তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিএডিসি পাটবীজ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরে কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা কর্মসূচির আওতায় পাট উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৮০ মেট্রিক টন পাটবীজ সংগ্রহের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। কুষ্টিয়া জোনের দাবি, তারা চলতি মৌসুমে ২৮৩ মেট্রিক টন পাটবীজ সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করেছে।

সরবরাহ করা বীজের মধ্যে প্রায় ২৪ দশমিক ৫ মেট্রিক টন বীজ ফরিদপুর পাটবীজ বিভাগ বাতিল ঘোষণা করে কুষ্টিয়া জোনে ফেরত পাঠায়। বিপণন বিভাগের উপপরিচালক সৈয়দ কামরুল হক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বীজগুলোতে প্রত্যাশিত অঙ্কুরোদ্গম না হওয়ায় সেগুলো ফেরত দেওয়া হয়েছে।

কুষ্টিয়া জোনের পাটবীজ বিভাগের উপপরিচালক মনিরা খাতুন এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দেখছেন।”

অনুসন্ধানে দেখা যায়, কুষ্টিয়া জোনের পাটবীজ গুদামে সংরক্ষিত একই লটের প্যাকেটজাত বীজের মধ্যে দৃশ্যমান পার্থক্য রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেখানে আসল ও নিম্নমানের বীজ মিশ্রণের ঘটনা ঘটেছে। গণমাধ্যমে অনুসন্ধানের বিষয়টি জানতে পেরে কিছু বীজ গুদামের পেছনের ঝোপে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত উদ্যোক্তা কৃষকদের উৎপাদিত বীজ সরকারি প্রত্যয়ন সংস্থার মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গুণগত মান নিশ্চিত করে প্রক্রিয়াজাত ও বাজারজাত করার কথা। তবে কুষ্টিয়া জোনের গুদামে এ নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গাংনী উপজেলার এক উদ্যোক্তা কৃষক বলেন, “বিএডিসি দাবি করছে তারা ২৮৩ মেট্রিক টন বীজ সংগ্রহ করেছে। কিন্তু কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ ও মাগুরাসহ আশপাশের জেলাগুলো মিলিয়েও এত পরিমাণ বীজ উৎপাদন হয়নি। তাহলে এই বিপুল পরিমাণ বীজ কোথা থেকে এলো?”

একই কৃষক আরও অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে কম দামে আমদানি করা নিম্নমানের বীজ অসাধু ব্যবসায়ী ও কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে পাটবীজ হিসেবে বাজারজাত করা হচ্ছে।

মেহেরপুর জেলা বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন জানান, কুষ্টিয়া পাটবীজ জোনের আওতায় বিএডিসির তালিকাভুক্ত কৃষক ও নিজস্ব খামারের প্রায় ৭৫ হেক্টর জমি থেকে উৎপাদিত ৫৬ মেট্রিক টন পাটবীজের প্রত্যয়ন দেওয়া হয়েছে।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বটতৈল গ্রামের কৃষক আলাউদ্দিন মণ্ডল বলেন, “সরকারি প্রণোদনার বীজ বপনের পর চারা গজায়নি। এক বিঘা জমি প্রস্তুত করতে প্রায় ১২ হাজার টাকা খরচ করেছি। এখন জমি অনাবাদি পড়ে আছে। ক্ষতির দায় কে নেবে?”

বটতৈল ইউনিয়নের আরও অনেক কৃষক একই অভিযোগ করেছেন।

বটতৈল ইউনিয়নের সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম বলেন, “প্রণোদনার আওতায় পাওয়া পাটবীজে কাঙ্ক্ষিত জার্মিনেশন না পাওয়ার অভিযোগ প্রায় সব সুবিধাভোগী কৃষকের কাছ থেকেই এসেছে।”

মিরপুর উপজেলার আমলা বাজারের এক বীজ ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, “নকল ট্যাগ ও নিম্নমানের বীজ বাজারজাতের সঙ্গে একটি বড় চক্র জড়িত। অনুমোদিত ব্র্যান্ডের নমুনা পরীক্ষার পর অন্য বীজ প্যাকেটজাত করে বাজারে সরবরাহ করা হয়।”

কুষ্টিয়া জেলা বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির প্রধান কর্মকর্তা কৃষিবিদ এ কে এম কামরুজ্জামান বলেন, “কৃষক যাতে মানসম্মত বীজ পান, সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করি। বীজ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে অনিয়ম পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। চলতি বছর ১৭টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

কুষ্টিয়া সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ রূপালী খাতুন বলেন, “বিএডিসি বীজ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সরবরাহ করে থাকে। মাঠপর্যায়ে আমরা শুধু কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করেছি।”

সব অভিযোগ নাকচ করে বিএডিসি কুষ্টিয়া পাটবীজ বিভাগের উপপরিচালক মনিরা খাতুন বলেন, “আমাদের সরবরাহ করা সব বীজের গুণগত মান পরীক্ষা করা হয়েছে। কোনো ক্রেতা বা সুবিধাভোগী সন্তুষ্ট না হলে বীজ ফেরত দিতে পারেন।”

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুষ্টিয়ার উপপরিচালক ড. মো. শওকত হোসেন ভূঁইয়া বলেন, “বিএডিসির বীজ ব্যবস্থাপনার তথ্য আমাদের কাছে থাকে না। ''

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর: তিন নদীতে পানি বাড়ছে পদ্মাপাড়ে ভাঙন

খোকসায় ট্রেনের যাত্রাবিরতি বাতিলের প্রতিবাদে ৩ ঘণ্টা রেললাইন অবরোধ

ভাঙছে পদ্মাপাড়, বাড়ছে দুর্ভোগ

হত্যাকাণ্ডের শিকার ইবি শিক্ষিকার পরিবারকে শিক্ষকদের এক দিনের বেতন দেওয়ার উদ্যোগ

খেলা দেখে দেরিতে বাড়ি ফেরায় স্ত্রীর বকা, আর্জেন্টিনা সমর্থকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

সমালোচনার মুখে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা না নিয়েই হাসপাতাল ছাড়লেন সাপুড়ে ইমরান

সাপের কামড়ে আহত সাপুড়ে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ‘বিষ ঝাড়া’ ওঝা

কুষ্টিয়ায় যাত্রীবাহী বাস উল্টে পুকুরে, আহত ২৫

পান কিনতে পাঠিয়ে কিশোরের ভ্যান নিয়ে চম্পট যাত্রী, কিস্তি নিয়ে বিপাকে পরিবার

কুষ্টিয়ায় আধিপত্য নিয়ে দুজনকে কু‌পিয়ে হত্যা