কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় বাউলসম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের আখড়াবাড়ি প্রাঙ্গণ থেকে উদ্ধার করা টাইম বোমাটি শক্তিশালী ছিল বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ।
ফয়সাল মাহমুদ বলেন, ‘এটি শক্তিশালী বোমা ছিল। তবে সময়মতো বস্তুটি শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব হওয়ায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো গেছে। বোমাটি নিষ্ক্রিয় করার পর পুরো মেলা প্রাঙ্গণে তল্লাশি চালানো হয়েছে এবং সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও কে বা কারা কী উদ্দেশ্যে বিস্ফোরকটি রেখে গিয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।’
এর আগে, গতকাল রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে লালন আখড়াবাড়ির প্রবেশপথে পুলিশের বক্স থেকে প্রায় ১০ হাত দূরে একটি নারিকেলগাছের গোড়ায় সাদা ব্যাগে মোড়ানো সন্দেহজনক বস্তু দেখতে পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সতর্ক অবস্থান নেয়। নিরাপত্তার স্বার্থে রাতেই আখড়াবাড়ির ভেতরে অবস্থানরত সাধু-ফকিরদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
পরে বোমা থাকার সন্দেহে ঢাকা থেকে পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলকে খবর দেওয়া হয়। আজ সোমবার সকালে দলটি ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যাগটি পরীক্ষা করে। এ সময় একটি টাইম বোমা ও দুটি বোতলে রাখা পেট্রল উদ্ধার করা হয়। বোমাটি থেকে বারুদ, ইলেকট্রনিক সার্কিট, ব্যাটারি ও অন্যান্য সরঞ্জাম পাওয়া যায়। পরে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করা হয়।
আখড়াবাড়ি প্রাঙ্গণ থেকে বোমা উদ্ধারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে লালনভক্ত ফকির দেবরাহ্ জান্নাত জানান, রোববার সন্ধ্যায় তাঁরা সাঁইজির ধাম ছেড়ে ঢাকায় গেছেন। সোমবার সকালে মাজার প্রাঙ্গণ থেকে বোমা উদ্ধারের খবর শুনেছেন।
দেবরাহ্ বলেন, ‘অনুষ্ঠানে আতঙ্ক তৈরির জন্য হয়তো এমন কাজ করা হয়েছে। যারা মানুষকে ভালোবাসে না, বাংলাদেশকে ভালোবাসে না, তারাই এ ধরনের কাজ করতে পারে। চরম ঘৃণা ছাড়া এর আর কোনো কারণ দেখছি না। আমরা মৃত্যুকে ভয় পাই না। যেখানে যেভাবে মৃত্যু লেখা আছে, সেভাবেই হবে। আমরা সব সময় মানবকল্যাণে ও মানুষের ভালো থাকার জন্য দোয়া করে যাব।’
এদিকে, ঘটনার পর আখড়াবাড়ি প্রাঙ্গণে সাধু, ভক্ত ও সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে। মাজার ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।