কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কথিত পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামিমের কবর থেকে দেহাবশেষ তুলে দরবার প্রাঙ্গণে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সেখান থেকে দেহাবশেষ উদ্ধার করে আগের কবরস্থানেই পুনরায় দাফন করা হয়েছে। রাতের আঁধারে কবর খুঁড়ে দেহাবশেষ সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা তৎপর রয়েছে।
আজ শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাশ। কবরস্থান পরিদর্শনের সময় কবরের মাটি সরিয়ে দেহাবশেষ তুলে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। পরে প্রশাসনের নির্দেশনায় ফিলিপনগর দারোগার মোড় এলাকার শামিমের দরবার প্রাঙ্গণ থেকে দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার ‘৫০০ বিঘা মাঠ’ নামে পরিচিত স্থানীয় কবরস্থানে তা পুনরায় দাফন করা হয়।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, কবর থেকে শামিমের দেহাবশেষ তুলে মাজার প্রাঙ্গণে নেওয়া হয়েছিল, আমরা তাঁর পুরোনো কবর খুঁড়ে দেখেছি। সেখানে তাঁর দেহাবশেষ নেই। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাজারে থাকা তাঁর দেহাবশেষ উদ্ধার করে মূল কবরস্থানেই পুনরায় দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কবর থেকে দেহাবশেষ সরিয়ে নেওয়ার আলামত পায়। পরে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নির্দেশে এবং এলাকাবাসীর সহায়তায় বেলা ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে দরবার প্রাঙ্গণ থেকে দেহাবশেষ উত্তোলন করা হয়। বিকেল ৪টার দিকে তা আগের কবরস্থানেই পুনরায় দাফন করা হয়েছে।
ওসি জানান, রাতের আঁধারে কারা কবর খুঁড়ে দেহাবশেষ সরিয়ে নিয়েছে, তা শনাক্তে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
ভেড়ামারা-দৌলতপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন বলেন, দেহাবশেষ পুনরায় দাফনের পর অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে শামিমের দরবারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ সময় তাঁকে মারধর করে হত্যার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করে দৌলতপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। এজাহারভুক্ত চার আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও বর্তমানে তাঁরা জামিনে রয়েছেন।