কুষ্টিয়ার মিরপুরে পানিতে ডুবে তিন বছরের এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী চিকিৎসকসহ তিনজন আহত হয়েছেন।
আজ শুক্রবার সকালে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। মৃত শিশু রাফি উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের নওদাপাড়া গ্রামের সাব্বির আহমেদের ছেলে।
পুলিশ, হাসপাতাল ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, সকালে বাড়ির পাশে পুকুরের পানিতে পড়ে যায় রাফি। উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত স্বজন ও স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি চিকিৎসকের কক্ষে ঢুকে অসদাচরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে মেডিকেল অফিসারের কক্ষসহ হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর চালানো হয়। এ ঘটনায় চিকিৎসক জান্নাতুল রিয়াসহ তিনজন আহত হন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা পীযূষ কুমার সাহা বলেন, শিশুটিকে হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। এরপরই কিছু লোক চিকিৎসক ও হাসপাতালের কর্মীদের ওপর হামলা করেন। এতে নারী মেডিকেল অফিসার, উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, জরুরি বিভাগের কর্মী ও আনসার সদস্য আহত হন। জরুরি বিভাগেও ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। বিষয়টি তাৎক্ষণিক প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
আহত চিকিৎসক জান্নাতুল রিয়া বলেন, সন্তান হারানোর বেদনার বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে দেখা হলেও হাসপাতালের জরুরি সেবাকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা চিকিৎসাসেবা ব্যাহত করেছে।
শিশুর বাবা সাব্বির আহমেদের জানান, হাসপাতালে নেওয়ার পর একজন চিকিৎসক একবার শিশুটির বুক পরীক্ষা করে কক্ষে চলে যান। এরপর ২০-২৫ মিনিট পর আরেকজন চিকিৎসক এসে পরীক্ষা করেন। তখন চিকিৎসকের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে কক্ষের কাচ ভেঙে যায়। কারও গায়ে ইচ্ছাকৃত আঘাত করা হয়নি বলেও দাবি করেন সাব্বির।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয় বলে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানান। এরপর স্বজনেরা হাসপাতালের দরজা ও বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর এবং চিকিৎসককে হেনস্তা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলাকারীদের পায়নি। পরে ভিডিও ফুটেজ দেখে তাঁদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।