নির্বাচনে হেরে যাওয়ায় তৎকালীন জেলা প্রশাসকের ওপর দোষ চাপালেন কুষ্টিয়া-৪ আসনে বিএনপির পরাজিত এমপি প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী। সে সঙ্গে শাস্তিস্বরূপ তাঁকে বদলি করে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এই বক্তব্য দেন। এ নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। এ সময় অনুষ্ঠানের সভাপতি ছিলেন জেলা প্রশাসক তৌহিদ-বিন-হাসান।
২ মিনিট ২৯ সেকেন্ডের ভাইরাল ভিডিওতে সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি তিনবার সংসদ সদস্য ছিলাম। কিন্তু দাওয়াত পাওয়ার অধিকার আমাদের নেই। গত নির্বাচনে আমাকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের কিছু গাদ্দার ও আমাদের দলের কিছু গাদ্দার মিলে আমাকে ৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছে। আমি ১ লাখ ৪০ হাজার ভোট পেয়েছি।’
সবশেষ সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে মেহেদী রুমী বলেন, ‘৬০ বছর ধরে রাজনীতি করি, ৭৩ বছর বয়স আমার। মুক্তিযুদ্ধে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছি। অনেকেই আছেন মুক্তিযোদ্ধা নাম, কিন্তু কোনো ভূমিকা পালন করেননি। এই রকম বহু লোককে চিনি আমরা। আমাদের জন্ম এই কুষ্টিয়া শহরে। আমরা যখন মুক্তিযুদ্ধ করেছি, তখন এখানে উপস্থিত অনেকেরই জন্ম হয়নি।’
নির্বাচনকালীন জেলা প্রশাসকের ভূমিকা টেনে মেহেদী রুমী বলেন, ‘কুষ্টিয়ার আগের জেলা প্রশাসক (ইকবাল হোসেন) গাদ্দারি করেছেন নির্বাচনের সময়। উনি গাদ্দারি করেছেন, কুমারখালী প্রশাসন গাদ্দারি করেছে, খোকসা প্রশাসন গাদ্দারি করেছে। আমি এক লাখ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হতাম। কিন্তু সেটা হতে দেয়নি। জানি না আমার অপরাধ কী। আমরা একটু কথা বলি, সত্য বলার চেষ্টা করি, এটাই আমার অপরাধ। আমি নির্বাচনে ভোট গণনার জন্য হাইকোর্টে মামলা করেছি। হাইকোর্ট একসেপ্ট করেছে। ২৪ জুন শুনানি আছে। আমার বিশ্বাস, ভোট পুনঃগণনা হবে। আমি বিজয়ী হব, হব, হব ইনশা আল্লাহ।’
বক্তব্যের শেষ দিকে মেহেদী রুমি বলেন, ‘আগের জেলা প্রশাসক সাহেবকে আমরা ইচ্ছা করে বদলি করে দিয়েছি। কারণ, গভর্নমেন্ট আমাদের তো। আমি একজন সিনিয়র লোক, ৭৩ বছর বয়স। উনি (জেলা প্রশাসক) এ রকম কাজ করবেন, বুঝতে পারিনি। বুঝতে পারলে আমরা আগেই ব্যবস্থা নিতাম।’
কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক সাবেক এমপি অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, পুলিশ সুপার জসীম উদ্দীন, বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল আলম টুকুসহ অন্যরা।
প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পান সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী। তিনি সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি। মেহেদী রুমীকে ভোটে হারিয়ে এই আসনে জয় পান জামায়াত-সমর্থিত প্রার্থী আফজাল হোসেন।