হোম > সারা দেশ > কুষ্টিয়া

শৈশবেই শান্ত হয়ে গেছে মহিমা, কখনো চায় ‘বাবার কাছেই শুয়ে থাকব’

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

নিহত দেবাশীষ দত্তের শিশুকন্যা মহিমা দত্ত। ছবি: আজকের পত্রিকা

কলকাতার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বাবা–মা ও ছোট ভাইকে হারানোর পর থেকেই নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের মেয়ে সাত বছরের ছোট্ট মেয়ে মহিমা দত্ত। শিশুটির মনে কী চলছে তা প্রকৃত অর্থেই বোঝার উপায় নেই! থেকে থেকেই কেবল শ্মশানে যাওয়ার আবদার! সেখানে গেলে কখনো বলে ওঠে, ‘আমি বাসায় যাব না, বাবার কাছেই শুয়ে থাকব।’ বাসায় ফিরে আসার পর কিছুক্ষণ পরই গম্ভীর হয়ে যায়! জানতে চাইলে শুধু বলে, ‘আমার ভালো লাগছে না।’

গত মঙ্গলবার দাদা দিলীপ দত্তের সঙ্গে কুষ্টিয়া মহাশ্মশানে যায় মহিমা। সেখানে গিয়ে বাবা সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত ও ছোট ভাই স্বর্ণশিষ দত্তের সমাধির সামনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে। প্রিয় বাবা ও ভাইয়ের সমাধি দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেনি সে। বলেছে, ‘আমি বাসায় যাব না, বাবার কাছেই শুয়ে থাকব।’

আজ বুধবার রাতে মহিমার খোঁজ নিতে মোবাইল ফোনে কথা হয় প্রয়াত দেবাশীষ দত্তের বাবা দিলীপ দত্তের সঙ্গে। তিনি জানালেন, ‘মহিমা এখন অনেকটাই চুপচাপ হয়ে গেছে। নীরবে অঝোরে চোখের জল ফেলে। একা একাই কান্না করে। কিছু জিজ্ঞেস করলে শুধু বলে—আমার ভালো লাগছে না।’

শিশুটির দাদার ভাষ্যমতে, মুখে নেই কোনো অভিযোগ, স্বাভাবিক শিশুসুলভ চঞ্চলতা কমেছে বেশ—শুধু নীরবে অঝোরে চোখের জল ফেলছে ছোট্ট এই শিশু।

দিলীপ দত্ত বলেন, ‘বাবা, মা আর ভাইকে হারানোর বিষয়টি হয়তো পুরোপুরি বোঝার বয়স এখনো হয়নি মহিমার। কিন্তু তাদের না থাকার শূন্যতা সে অনুভব করছে। বাবার সমাধির পাশে গিয়ে থাকতে চায়, বাড়িতে ফিরতে চায় না। বারবার শ্মশানে নিয়ে যেতে বলে।’

গত ১৯ আগস্ট ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমিন, তিন বছর বয়সী ছেলে স্বর্ণশিষ দত্ত ও শ্বশুর আকরাম হোসেনসহ সাত বাংলাদেশি নিহত হন।

ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার রাতে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে শনিবার ছয়জনের মরদেহ দেশে আনা হয়। এর মধ্যে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মরদেহ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী কুষ্টিয়ায় নিয়ে এসে শেষকৃত্য ও দাফন সম্পন্ন করা হয়।

সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত ও তাঁর শিশুসন্তান স্বর্ণশিষের মরদেহ শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে কুষ্টিয়া মহাশ্মশানে সনাতন ধর্মীয় রীতিতে সৎকার করা হয়। পরে বাবা ও ছেলেকে পাশাপাশি সমাধি দেওয়া হয়। অন্যদিকে দেবাশীষের স্ত্রী আফসানা শারমিন ও শ্বশুর আকরাম হোসেনকে রাত ৩টার দিকে কুষ্টিয়া পৌর কবরস্থানে মুসলিম ধর্মীয় রীতিতে দাফন করা হয়।

এরপর থেকেই বাবা, মা ও ভাইকে হারিয়ে কুষ্টিয়ার আড়ুয়াপাড়ার ভাড়া বাসায় ঠাকুমা ও ঠাকুরদার কাছে গভীর শোক আর নিঃসঙ্গতায় দিন কাটছে মহিমার।