কুড়িগ্রামের উলিপুরে গৃহবধূ রোকাইয়া আক্তার রিংকি হত্যাকাণ্ডে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচারের দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে। আজ রোববার দুপুরে পৌর শহরের গবা মোড়ে রিংকির পরিবার ও এলাকাবাসী এ মানববন্ধন করে। পরে আসামিকে গ্রেপ্তার ও ন্যায় বিচারের দাবিতে দুই শতাধিক নারী-পুরুষ বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
হত্যাকাণ্ডের তিন বছর পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্বজনেরা। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, নিহত গৃহবধূর মা মাসুদা বেগম, মামি লিপি বেগম, এলাকাবাসীর পক্ষে ফকরুল ইসলাম, চাঁদ মিয়া, পান্ডুল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক বাদল প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, হত্যাকাণ্ডের তিন বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত আসামিদের শনাক্ত করা হয়নি। গৃহবধূ রিংকি হত্যার সঙ্গে তাঁর স্বামীসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন জড়িত থাকতে পারেন বলে বক্তারা দাবি করেন। তাঁরা অতি দ্রুত মামলার তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক স্মারকলিপি পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘মামলাটি বর্তমানে সিআইডি তদন্ত করছে। ঘটনার সময় আমি অন্য থানায় কর্মরত ছিলাম। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে আমরা দ্রুতই কাজ শুরু করব।’
উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এটিএম আরিফ বলেন, ‘স্মারকলিপি পেয়েছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হবে।’
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ১৩ আগস্ট সকালে বাবার বাড়ি উপজেলার তেলীপাড়া এলাকায় রোকাইয়া আক্তার রিংকির শোবার ঘরে তাঁর গলা কাটা মরদেহ দেখতে পান স্বজনেরা। পরে এ ঘটনায় নিহতের বাবা রেজাউল করিম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে উলিপুর থানায় মামলা করেন। হত্যাকাণ্ডের প্রায় ছয় মাস আগে পার্শ্ববর্তী ধরনীবাড়ী ইউনিয়নের মাঝবিল এলাকার এক সেনাসদস্যের সঙ্গে রিংকির বিয়ে হয়। ওই গৃহবধূ শ্বশুর বাড়ি থেকে অসুস্থ দাদিকে দেখতে বাবার বাড়িতে গিয়ে হত্যা হন।