সঞ্চালন লাইনের উন্নয়নকাজের জন্য উত্তরবঙ্গের জেলা কুড়িগ্রামে টানা সাত দিন আংশিক বিদ্যুৎ-বিভ্রাট বা লোডশেডিং হতে পারে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ সঞ্চালনকারী সংস্থা পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি বাংলাদেশ (পিজিসিবি)।
আগামী ২৯ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত এই শাটডাউন কার্যক্রম চলবে। এ সময় জেলাজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
পিজিসিবি সূত্রে জানা গেছে, সংস্থার আওতাধীন ‘পাওয়ার গ্রিড নেটওয়ার্ক স্ট্রেন্থেনিং (জিটুজি) প্রকল্পের’ নির্মাণকাজের অংশ হিসেবে রংপুর-কুড়িগ্রাম, রংপুর-লালমনিরহাট এবং রংপুর-তারাগঞ্জ ১৩২ কেভি (কিলোভোল্ট) সঞ্চালন লাইনে পর্যায়ক্রমে কাজ চালানো হবে।
প্রকল্প পরিচালক ও সংস্থাটির প্রধান প্রকৌশলী মো. আলমগীর হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ২৯ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত রংপুর-কুড়িগ্রাম ১৩২ কেভি সঞ্চালন লাইন শাটডাউনে থাকায় সংশ্লিষ্ট ৩৩ কেভি ফিডারগুলোর মাধ্যমে সঞ্চালনে ব্যাঘাত ঘটবে। ফলে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসির (নেসকো) আওতাধীন এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ আংশিক ব্যাহত বা লোডশেডিং হতে পারে।
তবে বিকল্প উৎস থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহের সুবিধা পাওয়া গেলে যথাসম্ভব নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ রাখার চেষ্টা করা হবে বলেও পিজিসিবির চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে।
নেসকো কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম জানান, এই পাওয়ার কাট বা লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়বে জেলাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা নেসকো এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির—উভয় ধরনের গ্রাহকদের ওপর।
তবে টানা সাত দিন পুরো জেলা বিদ্যুৎহীন থাকবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি।
সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রাহকেরা একেবারে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকবেন না। লোডশেডিং হলেও বিকল্প সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখা হবে। উন্নয়নকাজ শেষে আগামী ৫ আগস্টের পর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ আবার স্বাভাবিক ধারায় ফিরবে।’
এদিকে সম্ভাব্য এই বিদ্যুৎ-বিভ্রাটের খবর প্রকাশ পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য প্রচার করে সচেতনতামূলক বার্তা দিয়েছে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন।
অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় জেলা প্রশাসন জানায়, শাটডাউন চলাকালে বিদ্যুৎ সরবরাহে সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে সাধারণ মানুষকে আগাম প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ এবং ধৈর্য ধারণ করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।