ভারতীয় আগ্রাসন, অবৈধ পুশ ইন এবং মুসলিম নির্যাতনের প্রতিবাদে কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। শুক্রবার (১৩ জুন) বিকেলে রৌমারী উপজেলার সীমান্তবর্তী জিরো পয়েন্টসংলগ্ন চর নতুনবন্দর স্থলবন্দরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
রৌমারী উপজেলা জামায়াতের আমির হায়দার আলীর সভাপতিত্বে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের আমির মো. আজিজুর রহমান সরকার। বিশেষ অতিথি ছিলেন কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি নিজাম উদ্দিন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা আহ্বায়ক মুকুল মিয়া এবং রাজীবপুর উপজেলা জামায়াতের আমির আবুল বাশার আব্দুল লতিফ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ভারতকে অবিলম্বে সীমান্তে সহিংসতা ও উত্তেজনাকর কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। আন্তর্জাতিক আইন ও সীমান্ত চুক্তির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে প্রতিবেশীসুলভ আচরণ করার আহ্বান জানান তাঁরা। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্তে যেকোনো ধরনের আগ্রাসন বা অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত করার কথাও উল্লেখ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. আজিজুর রহমান সরকার বলেন, ‘দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় জনগণ সব সময় সচেতন রয়েছে।’ তিনি সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সতর্ক ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বক্তারা ২০০১ সালের বড়াইবাড়ি সীমান্ত সংঘর্ষের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশিরা অতীতেও দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও নেবে।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
প্রসঙ্গত, গত কয়েক দিন ধরে কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে নারী-পুরুষ জড়ো করে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে পুশ ইনের চেষ্টা করছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। কিন্তু বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং স্থানীয় জনতার প্রতিরোধের মুখে বিএসএফের বেআইনি চেষ্টা ব্যর্থ হয়। বর্তমানে সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়েছে বিজিবি।