হোম > সারা দেশ > কুড়িগ্রাম

‘টাকার বিনিময়ে’ সরকারি জমি অন্যদের দিচ্ছেন এসি ল্যান্ড

আরিফুল ইসলাম রিগান, কুড়িগ্রাম 

এসি ল্যান্ড আরিফুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে কুড়িগ্রাম সদরে গুচ্ছগ্রামের বন্দোবস্তকৃত জমিসহ খাস জমি ব্যক্তিমালিকানায় নামজারি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সহকারী কমিশনার (এসি ল্যান্ড) আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এতে আরাজি পলাশবাড়ী মৌজার অন্তত ৭২ একর জমি বেহাত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে, আর গুচ্ছগ্রামের শতাধিক পরিবার পড়েছে উচ্ছেদের ঝুঁকিতে। ভুক্তভোগীদের দাবি, আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে এসি ল্যান্ডসহ অন্যরা এই অনিয়ম ঘটিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আরাজি পলাশবাড়ী গুচ্ছগ্রামের খাস জমি বিভিন্ন ব্যক্তিমালিকানায় ‘ভ্রমাত্মক রেকর্ডভুক্ত’ হওয়ায় তা সংশোধনের আবেদন করেন গুচ্ছগ্রামবাসী। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আর এস রেকর্ড সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত আরাজি পলাশবাড়ী মৌজার ১ নং খাস খতিয়ানভুক্ত জমির (এস এ ২০০১, ২০৭৩ ও ২০৭৪ দাগের) সরকারি ভূমি উন্নয়ন করসহ যাবতীয় কার্যক্রম এস এ রেকর্ড মোতাবেক চলমান রাখার জন্য এসি ল্যান্ডকে নির্দেশ দেয় জেলা প্রশাসন। কিন্তু এসি ল্যান্ড এই নির্দেশনা অমান্য করে অন্তত ৭২ একর খাস জমি ব্যক্তিমালিকানায় খারিজ করে দিচ্ছেন।

গুচ্ছগ্রামবাসীর অভিযোগ, আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে এসি ল্যান্ড, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা, সার্ভেয়ার এবং সদর ভূমি অফিসের একাধিক কর্মচারী যোগসাজশে সরকারি স্বার্থবিরোধী এই তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন।

গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা মো. ফারুক বলেন, ‘ডিসি অফিসের নির্দেশনার পর জমির খাজনা দিতে গেছি। এস এ অনুযায়ী খাজনা নিচ্ছে না। শুনতেছি তলে তলে টাকা নিয়ে অন্যদেরকে জমি দিয়ে দিচ্ছে।’

হাছেন আলী নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘এমন কেউ নাই যে আমাদের দেখবে। সরকার জমি দিছে, ঘর দিছে। বন্দোবস্ত দেওয়া খাস জমি কীভাবে অন্যদের দিল, এই প্রশ্ন আমাদেরও।’ একই প্রশ্ন রাখেন গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার।

অনুসন্ধান ও জেলা প্রশাসনের আর এম শাখা সূত্রে জানা গেছে, আরাজি পলাশবাড়ী মৌজার এস এ দাগ ২০০১, ২০৭৩ এবং ২০৭৪-এর নিষ্কণ্টক খাস জমিতে সরকারি উদ্যোগে গুচ্ছগ্রাম আবাসন প্রকল্প গড়ে উঠেছে। ১৯৮৯ সালে রেজিস্ট্রিকৃত কবুলিয়াত মূলে ১৫টি ভূমিহীন-গৃহহীন হতদরিদ্র পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়। এরপর ১৯৯৯ সালে দুটি ব্যারাকে ২০টি পরিবার এবং ২০২১ সালে পাকা ঘর নির্মাণ করে দিয়ে আরও ২৪টি পরিবারকে পুনর্বাসন করে সরকার। এসব পরিবারের মধ্যে ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাও রয়েছেন। এ ছাড়া ২০০৯ সালে রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা বীর প্রতীক তারামন বিবিকে ওই মৌজায় (এস এ দাগ ২০৭৪) ১ একর খাস জমিতে বাড়ি নির্মাণ করে দিয়ে বন্দোবস্ত দেয় সরকার। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি শুরু থেকেই সরকারি এসব মহৎ উদ্যোগকে নস্যাৎ করতে চক্রান্ত শুরু করে। চক্রটি ভূমি অফিসের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ম্যানেজ করে পরিকল্পিতভাবে সরকারি এসব খাস জমি বিভিন্ন ব্যক্তির নামে বিভিন্ন খতিয়ানে ‘ভ্রমাত্মক রেকর্ডভুক্ত’ করে। এরপর তারা গুচ্ছগ্রামে পুনর্বাসিত বাসিন্দাদের উচ্ছেদের পাঁয়তারা শুরু করে। গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দারা জেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়ে লিখিত আবেদনের মাধ্যমে রেকর্ড সংশোধনের আবেদন জানান।

এসব তথ্য উল্লেখ করে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে জেলা প্রশাসন লিখিত পত্রের মাধ্যমে আরাজি পলাশবাড়ী মৌজার ১ নং খাস খতিয়ানভুক্ত জমির সরকারি ভূমি উন্নয়ন করসহ যাবতীয় কার্যক্রম এস এ রেকর্ড মোতাবেক চলমান রাখার জন্য সদর এসি ল্যান্ডকে নির্দেশ দেয়। কিছুদিন নির্দেশনা অনুসরণ করা হলেও ২০২৪ সালের মে মাসে বর্তমান এসি ল্যান্ড আরিফুল ইসলাম যোগদানের পর ফের বিপত্তি ঘটে। তিনি গুচ্ছগ্রামের খাস জমি আর এস রেকর্ড অনুযায়ী ব্যক্তিমালিকানায় নামজারি করা শুরু করেন। নিরুপায় গুচ্ছগ্রামবাসী ফের জেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হন। সর্বশেষ ২০২৫ সালের মার্চে একই নির্দেশ জারি করে এসি ল্যান্ডকে চিঠি দেয় জেলা প্রশাসন।

পৌর ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আব্দুল হাকিম শেখ বলেন, ‘চিঠির বিষয়ে আমার জানা নেই। প্রয়োজনে নামজারি বাতিল করা হবে।’ তবে দুই দিন পর তিনি তাঁর বক্তব্য থেকে সরে এসে বলেন, ‘আর এস গেজেট হওয়ায় এস এ অনুযায়ী ভূমি উন্নয়ন কর নেওয়ার সুযোগ নেই।’

এসি ল্যান্ড আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আর এস রেকর্ড অনুযায়ী নামজারি করা হচ্ছে। নামজারি করার সময় আমরা এস এ রেকর্ড দেখি। সেখানে সরকারি স্বার্থ থাকলে নামজারি স্থগিত রাখা হয়।’ এরপরও কীভাবে সরকারি খাস জমি ব্যক্তিমালিকানায় নামজারি হচ্ছে, এমন প্রশ্নে তিনি কোনো সদুত্তর দেননি।

নির্দেশনা না মানা প্রসঙ্গে এসি ল্যান্ড বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের এমন চিঠি আমি পাইনি। পেলেও বিধিসম্মত নয় জানিয়ে উত্তর লিখতাম। আর এস গেজেট হওয়ার পর এস এ অনুযায়ী কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার সুযোগ নেই।’ যদিও খোদ সরকার আর এস রেকর্ড প্রকাশ হওয়ার পর এস এ রেকর্ড অনুযায়ী খাস জমিতে গুচ্ছগ্রাম গড়ে তোলে।

এ বিষয়ে জানতে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ধরেননি।

কুড়িগ্রামে বিদ্যুতায়িত হয়ে যুবকের মৃত্যু

নিখোঁজের ৬ ঘণ্টা পর গৃহবধূকে পাওয়া গেল তেঁতুলগাছের মগডালে

কুড়িগ্রামে চারজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

কুড়িগ্রামে ট্রাক-মাইক্রোবাস মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ৩

দুধকুমারে বালু উত্তোলন, ঝুঁকিতে তীর রক্ষা বাঁধ

২৫ বছরের জমানো টাকা দিয়ে সেতু নির্মাণ করে প্রশংসায় ভাসছেন আব্দুল করিম

কুড়িগ্রামের দুই উপজেলায় জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ

সকালে ‘নিখোঁজ’, রাতে বাড়ির পাশে মিলল শিশুর মরদেহ

কুড়িগ্রাম আইনজীবী সমিতি: নতুন সদস্যভুক্তির ফি আড়াই লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা

সংস্কারকাজে ধীরগতি, প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ এলাকাবাসীর