কুড়িগ্রামের রৌমারীতে একটি ডোবা থেকে এক গৃহবধূর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে মরদেহের গলায় ওড়না দিয়ে প্যাঁচানো খণ্ডিত কংক্রিটের ব্লক ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার পুরাতন যাদুরচর এলাকার একটি ডোবা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত গৃহবধূর নাম গোলাপি খাতুন (২৬)। তিনি সদর ইউনিয়নের বাওয়াইর গ্রামের প্রবাসফেরত সৈয়দ আলীর স্ত্রী।
স্বামীর মামাতো ভাইদের সঙ্গে জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গোলাপিকে হত্যা করে লাশ ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বামী এবং বাবার বাড়ির লোকজন। গোলাপি খাতুনের ভাই বেলাল হোসেন বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে রৌমারী থানায় মামলা করেছেন।
নিহতের স্বামী সৈয়দ আলী ও ভাই বেলাল দাবি করেন, সৈয়দ আলীর মামাতো ভাই মতিন, হাসিনুর, মহর, আছমত ও সাহার আলী গংদের সঙ্গে কেনা একটি জমির মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। সৈয়দ আলী প্রবাসে থাকায় এ ঘটনায় গোলাপি খাতুন বাদী হয়ে হাসিনুর-মতিন গংদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। সৈয়দ আলী দেশে ফেরার পর এ নিয়ে দফায় দফায় সালিস হয়। স্থানীয় মাতবররা গোলাপি খাতুনকে মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত দেন।
সৈয়দ আলী বলেন, ‘মামলা প্রত্যাহারে দেরি হওয়ায় গত কয়েক দিন ধরে হাসিনুর-মতিন গং আমাদের বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে দেয়। মামলা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত আমাদের নিজ বাড়িতে উঠতে বাধা দেয়। তাঁদের ভয়ে আমরা বারবান্দা গ্রামে আমার বোনের বাড়িতে আশ্রয় নেই। গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) তারা গোলাপিকে বাড়িতে ওঠার কথা বলে ফোনে ডেকে নেয়। পরে হাসিনুরের বাড়িতে জিম্মি করে রাখে। সন্ধ্যায় আমি স্ত্রীর খোঁজ করলে গোলাপি তাঁদের কাছে নেই বলে জানায় হাসিনুর-মতিন গং। এরপর বিভিন্ন জায়গা ও আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে খোঁজ করেও স্ত্রীর সন্ধান পাইনি। দুই দিন পর বৃহস্পতিবার সকালে শুনতে পাই যে, গোলাপির লাশ পাওয়া গেছে।’
সৈয়দ আলীর আরও বলেন, ‘গোলাপিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তি দাবি করছি। কেউ যেন পার না পায়।’
মামলার বাদী ও নিহতের ভাই বেলাল বলেন, ‘আমার বোনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ গুম করার জন্য পানিতে ফেলা হয়েছিল। আমি মামলা করেছি। জড়িত সকলের দ্রুত গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তি চাই।’
এ বিষয়ে রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওছার আলী বলেন, নিহতের ভাই বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।