কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে চাহিদামতো সার না পাওয়ার অভিযোগ ও খোলাবাজারে বিক্রির দাবিতে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করেছেন কৃষকেরা। আজ সোমবার সকালে উপজেলার বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের ব্রিজপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে কিছু সময় অবরুদ্ধ করে রাখেন বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
জানা গেছে, আজ বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ব্রিজপাড় এলাকার বিএডিসি সার ডিলার আমজাদ হোসেনের মেসার্স আফি সারঘরে সার বিতরণ শুরু হয়। বিপুলসংখ্যক কৃষক সার নিতে সেখানে জড়ো হন। এ সময় সার না পাওয়ার আশঙ্কা ও খোলাবাজারে সার বিক্রির দাবিতে কিছুসংখ্যক কৃষক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন এবং কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
খবর পেয়ে ইউএনও অমৃত দেব নাথ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল হক তারেক, ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিনসহ উপজেলা বিএনপির নেতারা ঘটনাস্থলে গিয়ে খোলাবাজারে সার বিক্রির আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। পরে উপস্থিত কৃষকদের ডাই অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) ৩৩৫ বস্তা, ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) ৯৫ বস্তা ও মিউরেট অব পটাশ (এমওপি) ১৫৭ বস্তা বিতরণ করা হয়।
কয়েকজন ক্ষুব্ধ কৃষক বলেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেও সার পাওয়া যায় না। সার নিতে গেলে পুরো দিন চলে যায়। এখন একজন শ্রমিকের এক দিনের পারিশ্রমিক ৭০০ টাকা। খোলাবাজারে সার বিক্রি করা হলে কোনো রকম ঝামেলা ছাড়াই সার পাওয়া যাবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার বলেন, ‘আজ সোনাহাট ইউনিয়নের চার ওয়ার্ডের কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণের কথা ছিল। তবে ইউনিয়নটির বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে বিপুলসংখ্যক কৃষক সেখানে উপস্থিত হন। তাঁরা উত্তেজিত হয়ে আমাকে ঘিরে ধরেন এবং সড়ক অবরোধ করেন।’
ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিম উদ্দিন বলেন, সারের জন্য ক্ষুব্ধ কৃষকেরা কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে। পরে সুষ্ঠুভাবে সার বিতরণ করা হয়।
ইউএনও অমৃত দেব নাথ আজ সন্ধ্যায় বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। খোলাবাজারে সার বিক্রির বিষয়ে উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভা চলছে। কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক পরবর্তী কার্যক্রম চালানো হবে।