হোম > সারা দেশ > কুড়িগ্রাম

এলাকায় না পেয়ে কুমিল্লা থেকে সার আনলেন কুড়িগ্রামের হাসিনা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

নিজের জমিতে সার প্রয়োগ করছেন হাসিনা। ছবি: আজকের পত্রিকা

‘এলাকাত সার পাই নাই। জমিত ধান লাগার সময় সার দিবার পাই নাই। দুই মাসের মতো বয়স হইছে। সার বিনাকর ধান বসি গেইছে (বৃদ্ধি হয়নি)। শ্যাষত বাড়িওয়ালা (স্বামী) কুমিল্লা থাকি ১৫ কেজি সার পাঠে দিছে। আইজ সেই সার জমিত দিলং।’ নিজের ধানের জমির পাশে দাঁড়িয়ে এভাবে বলছিলেন গৃহবধূ হাসিনা বেগম।

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বল্লভেরখাস ইউনিয়নের হাজিপাড়ার হাসিনা বেগম আজিজার রহমানের স্ত্রী। আজিজার কুমিল্লায় ট্রাকের লোড-আনলোড শ্রমিক (কুলি) হিসেবে কাজ করেন। এলাকায় সার সংকটের খবর শুনে তিনি বাড়িফেরত এক যুবকের মাধ্যমে ১৫ কেজি ইউরিয়া কিনে পাঠিয়েছেন বলে জানান হাসিনা।

আজ শনিবার দুপুরে বল্লভেরখাস ইউনিয়নের হাজিপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, নিজের ৩৬ শতাংশ জমিতে সার প্রয়োগ করছেন হাসিনা। এক নিকটাত্মীয়কে দিয়ে জমিতে সার ছিটিয়ে নিচ্ছেন। প্রান্তজুড়ে গাঢ় সবুজ আমনখেত। মাঝে হাসিনার জমির আমন ধানের চারা গাছ লালচে আকার ধারণ করেছে। সময়মতো সার দিতে না পারায় ধানগাছের আশানুরূপ বৃদ্ধি হয়নি।

হাসিনা বলেন, ‘এলাকাত সার পাই না। ভিড়তে লাইনত দাঁড়বারও পাই না। জমি গারছি থাকি এক বারও সার দেই নাই। শ্যাষত ওমরা কুমিল্লা থাকি ১৫ কেজি সার পাঠে দিছে। তাও দলা ধরা (জমাট)। সেই সার দিয়া নিবার লাগছি। সার বিনাকর ধান আগায় নাই, বসি গেইছে।’

হাসিনার জমিতে সার ছিটিয়ে দিচ্ছিলেন হোকমান আলী। সার সংকটের জন্য উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা (বিএস), ডিলার আর খুচরা বিক্রেতাদের সিন্ডিকেটকে দায়ী করে এই কৃষক বলেন, ‘বিএসগুলা সব নষ্টের মূল। এমরায় ডিলারসহ সার চোর করি অন্য জায়গাত বেচে। রাইতে রাইতে সার বেচে দেয়। ওমার জন্যে হামরা সার পাই না। ফির টাকা বেশি দিলে সার পাওয়া যায়।’

শুধু হাসিনা বা হোকমান আলী নন, বল্লভেরখাস ইউনিয়নের অধিকাংশ কৃষকের একই অভিযোগ। ডিলার পয়েন্টে সার না পেলেও অনেকে বেশি দামে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সার কিনছেন। নারীরা পড়ছেন বিড়ম্বনায়। তাঁরা না পারছেন ডিলারের গুদামের সামনে ভিড় ঠেলে লাইনে দাঁড়াতে আবার না পারছেন গোপনে খুচরা বিক্রেতার কাছে সার আনতে।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ইউনিয়নে ১ হাজার ৮৬৯ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে। এ বছর বন্যা না হওয়ায় ইউনিয়নের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আরও ৯০ হেক্টর বেশি জমিতে আমন চাষ হয়েছে। ইউনিয়নে প্রয়োজনের চেয়ে সারের বরাদ্দ কম। বেশির ভাগ জমিতে দুই দফা সার দেওয়া হলেও এখনো অনেক জমিতে একবার কিংবা দুবার সার দিতে হবে। অতিরিক্ত ৮ টন সার বরাদ্দ পাওয়া গেছে। সেগুলো কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে।’

সার সিন্ডিকেট নিয়ে কৃষকদের অভিযোগের বিষয়ে এই কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ‘সার বাইরে বিক্রির সুযোগ নেই। আমরা মজুত পরীক্ষা করে বিতরণ করি। কিন্তু এক ব্লকের কৃষকদের জন্য সার বিতরণ করলে অন্য ব্লকের কৃষকেরাও সারের জন্য ভিড় করেন। এতে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।’