হোম > সারা দেশ > কুড়িগ্রাম

নিরাপদে আছেন দুই শিশুসন্তানসহ শূন্যরেখা থেকে সরানো সেই দম্পতি

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

অবশেষে দুই শিশুসন্তানসহ শূন্যরেখা থেকে সরানো হলো সুমি-বেলাল দম্পতিকে। ছবি: আজকের পত্রিকা

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া সীমান্তের শূন্যরেখায় দুই শিশুসন্তান নিয়ে চার দিন অবস্থানের পর অবশেষে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে সুমি আক্তার ও বেলাল হোসেন দম্পতিকে। পরিবারের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, তারা বর্তমানে গাজীপুরের শ্রীপুরে নিরাপদ আশ্রয়ে আছেন। আজ শুক্রবার দুপুরে সূত্রটি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সীমান্তের প্রত্যক্ষদর্শী বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে ওই দম্পতি ও তাদের দুই শিশুসন্তানকে গয়টাপাড়া সীমান্ত থেকে সরিয়ে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে বিজিবি ও রৌমারী থানা পুলিশ।

তবে বিজিবি ও পুলিশ—কোনো পক্ষই গণমাধ্যমে এ তথ্য স্বীকার করতে রাজি হয়নি।

জামালপুর বিজিবি ৩৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান আজকের পত্রিকাকে জানান, দুই শিশুসহ ওই দম্পতি এখন রৌমারী সীমান্তে নেই। তবে তাদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে তিনি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

বেলাল-সুমি দম্পতির অবস্থান সম্পর্কে পরিবারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে সরিয়ে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তারা ময়মনসিংহে পৌঁছালেও ভালুকা উপজেলার বিরানিয়া ইউনিয়নের কংসেরকুল গ্রামে নিজ বাড়িতে যাননি। গণমাধ্যমকে এড়িয়ে তারা বৃহস্পতিবারই ময়মনসিংহ হয়ে গাজীপুরের শ্রীপুরে যান। গত দুই দিন ধরে তারা সেখানেই অবস্থান করছেন এবং ভালো আছেন। আপাতত তারা গ্রামের বাড়ি ফিরবেন না বলেও সূত্রটি জানিয়েছে।

সূত্রটি আরও বলে, ‘চেয়ারম্যান-মেম্বার সবাই খালি চাপ দিতাছে। সাংবাদিকরা খোঁজ নিতাছে। সবাই খালি জিগায় “বেলাল কই আছে”? বেলাল বাড়িতে আহে নাই। তারে দূরে রাখছি। তার এক চাচা তাদের গাজীপুরে রাইখা আসছে। সেখানে বৌ-বাচ্চাদের নিয়া ভালা আছে।’

বেলালের অবস্থান সম্পর্কে জানতে তার মা হাসনা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘বেলাল বাড়ি নাই। কই আছে জানি না।’ এরপর তিনি ফোন রেখে দেন।

এর আগে গত রোববার ভোর ৬টার দিকে উপজেলার গয়টাপাড়া সীমান্তপথে নারী-শিশুসহ ৬ জন এবং ইজলামারী সীমান্তপথে আরও ৩ জনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পুশইনের চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ—এমন দাবি করা হয়। কাঁটাতারের এপারে বাংলাদেশ প্রান্তে ঠেলে দেওয়া হলেও বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসীর বাধায় তাদের বাংলাদেশ ভূখণ্ডে পাঠাতে পারেনি বিএসএফ। এরপর টানা চার দিন নারী-শিশুসহ ভুক্তভোগীরা সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করেন। এ সময় তাদের ঘিরে রাখে বিজিবি ও বিএসএফ।

সুমি আক্তার ও বেলাল হোসেনের দাবি, কয়েক সপ্তাহ আগে সিলেট সীমান্তপথে তারা বাংলাদেশ থেকে ভারতে যান। সেখানে গোয়াহাটি পুলিশ তাদের আটক করে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে। পরে গত রোববার ভোরে বিএসএফ তাদের সীমান্তের কাঁটাতার পার করে দেয়। তবে বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধায় তারা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে পারছিলেন না।

সরকারি চাল আত্মসাৎ, ৪২ বছর পর মিলারের ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড

অবশেষে শূন্যরেখা থেকে সরানো হলো শিশুসন্তানসহ দম্পতিকে

বালুবাহী ট্রাক উল্টে পড়ল রেললাইনে, কুড়িগ্রামের রেল যোগাযোগ বন্ধ

দেড় মাস ধরে মায়ের সঙ্গে কারাবন্দী দুই বছরের শিশু

চার দিন ধরে নিখোঁজ স্কুলছাত্রী, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ

৫০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও সীমান্তের শূন্যরেখায় দুই শিশুসন্তানসহ দম্পতি

‘আমার সন্তানেরা অসুস্থ হয়ে গেছে, আমরা বাঁচতে চাই’

দুই অসুস্থ শিশুসন্তান নিয়ে দুদিন ধরে সীমান্তের শূন্যরেখায় দম্পতি: ‘আমরা বাঁচতে চাই’

প্রথম বিয়ে গোপন করে যুবকের দ্বিতীয় বিয়ে: স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর অনশন

দিনভর সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে নারী-শিশুসহ ৯ জন, রাত নামলেও নেয়নি কোনো দেশ