কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ডিলার পয়েন্টে সার বিতরণে দেরি হওয়ায় বিক্ষুদ্ধ কৃষকেরা গুদামের বেড়া ভেঙে শতাধিক বস্তা সার নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আজ সোমবার সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের রৌমারী মহিলা কলেজপাড়া এলাকায় মেসার্স মিতা-হাসান এন্টারপ্রাইজ নামের ডিলার পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, সারের বস্তা লুটের ঘটনা ঘটেনি। কিছু কৃষক হুড়োহুড়ি করে বস্তা নিয়ে গেছেন। সেটি লুটের ঘটনার ভিডিও দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে।
এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, সার বিক্রির সময় পেরিয়ে গেলেও ডিলার পয়েন্টে ডিলার, কৃষি কর্মকর্তা অথবা পুলিশ-প্রশাসন কেউই উপস্থিত হয়নি। ধৈর্যহারা কৃষকেরা ডিলার পয়েন্টের বেড়া ভেঙে শতাধিক বস্তা সার তুলে নিয়ে যান। অনেকে বস্তা মাথায় করে, কেউ কেউ আবার অটোরিকশায় কিংবা ভ্যানে করে নিয়ে এলাকা ত্যাগ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী কৃষক জাকির হোসেন বলেন, বন্দবেড় ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডসহ আশপাশের এলাকার কৃষকেরা সার সংগ্রহের জন্য ভোর থেকে ওই ডিলার পয়েন্টে জড়ো হন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও ডিলারের দেখা না পেয়ে তাঁদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বেলা ১১টার পর কৃষকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে গুদামের টিনের বেড়া ভেঙে শতাধিক বস্তা সার নিয়ে যান।
সার ডিলারের ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সার বিতরণ শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় প্রশাসনের সহযোগিতা নিতে ইউএনওর কাছে যাওয়া হয়। এরই মধ্যে ধৈর্যহারা কৃষকেরা গুদামের বেড়া ও দরজা ভেঙে সারের বস্তা নিয়ে যান। পরে অনেকে কিছু বস্তা ফেরত দিয়ে গেছেন। অনেকে আবার সড়কের পাশে ফেলে রেখে গেছেন। কেউ কেউ আবার টাকা দিয়ে গেছেন।
সাইফুল আরও বলেন, ‘গত ৩১ আগস্ট তিন শতাধিক বস্তা ইউরিয়া সার বিক্রি করা হয়েছিল। আজ ঘরে ৭৩৯ বস্তা সার ছিল। সারের কোনো সংকট ছিল না। কিন্তু কৃষকেরা নিজেরাই গন্ডগোল ও হুড়োহুড়ি শুরু করেন। আমরা প্রশাসনকে ডাকতে গেছি। এরই মধ্যে ঘরের একদিকের বেড়া ও দরজা ভেঙে তাঁরা কিছু বস্তা সার নিয়ে গেছেন।’
রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহবুবুল আলম বসুনিয়া বলেন, উপজেলায় সারের কোনো সংকট নেই। কৃষকেরা ধৈর্য ধরে সার সংগ্রহ করলে কোনো সমস্যা হবে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আগামীকাল থেকে খোলাবাজারে সার বিক্রির ব্যবস্থা করা হবে। এতে সার নিয়ে ছড়ানো গুজবও দূর হবে।
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহবুবুল হাসান বলেন, ‘বস্তা লুটের তথ্য সঠিক নয়। আমি নিজেই বিভিন্ন ডিলার পয়েন্টে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছি। একটি সার বিক্রয়কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তা নিয়ন্ত্রণে আনেন। সারিবদ্ধভাবে কৃষকেরা সার ক্রয় করে ফিরে গেছেন। পরে খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি করা যায় কি না, আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।’