কুড়িগ্রামের উলিপুরে খুচরা সার বিক্রেতার দোকানে যাওয়া এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করেছেন উত্তেজিত কৃষকেরা। খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে আঁতাত করে সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগ তুলে দোকানদারসহ ওই কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করেন তাঁরা। প্রায় দুই ঘণ্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার বজরা ইউনিয়নের গাবতলী বাজারে এ ঘটনা ঘটে। অবরুদ্ধ কৃষি কর্মকর্তার নাম স্বপন কুমার। তিনি উপজেলার বজরা ইউনিয়নের সাদুয়াদামার হাট এলাকার দায়িত্বে রয়েছেন।
গাবতলী বাজারের একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী ব্যবসায়ী জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় বাজারের খুচরা সার বিক্রেতা আবদুল গফফারের দোকানে যান কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার। এ সময় ইউনিয়নের বাঁধের পাড়ের আরেক খুচরা সার বিক্রেতা নুরুল হুদাও সেখানে আসেন। তাঁদের মধ্যে আলাপচারিতা দেখে স্থানীয় কৃষকদের সন্দেহ হয়। তারা আঁতাত করে খুচরা বাজারে সার বিক্রি করছেন—এমন অভিযোগ তুলে কৃষকেরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরে দুই দোকানদারসহ কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমারকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন তাঁরা। দুই শতাধিক কৃষক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিক্ষোভ করেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সাঈদ বাসারি বলেন, মানুষ সারের জন্য এমনিতেই ক্ষিপ্ত হয়ে আছে। এর মধ্যে ওই কৃষি কর্মকর্তা খুচরা সার বিক্রেতা গফফারের দোকানে গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলতে থাকেন। এ সময় ওই দোকানে বাঁধের পাড়ের আরেক খুচরা সার বিক্রেতা নুরুল হুদাও আসেন। এতে কৃষকদের সন্দেহ হয়। পরে তারা দুজন সার বিক্রেতা ও কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করেন।
তিনি বলেন, কৃষকরা এতটাই উত্তেজিত ছিলেন যে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। তাদের দোকানের ভেতরে ঢুকিয়ে শাটার নামিয়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে উলিপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কৃষি কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ঘটনাস্থলে বিক্ষোভকারী কৃষকদের অভিযোগ, ডিলারের কাছে গিয়ে চাহিদা অনুযায়ী সার পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক কৃষক সার না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। অথচ একই বাজারের খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে কেজিপ্রতি ৫০ টাকা দরে সার পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় একটি সিন্ডিকেটের সঙ্গে আঁতাত করে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা কৃত্রিম সার সংকট তৈরি করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
অভিযুক্ত কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘আজ সেখানে কোনো সার বিতরণ ছিল না। ওই কৃষি কর্মকর্তা সেখানে ব্যক্তিগত কাজে গিয়েছিলেন বলে আমাকে জানিয়েছেন। তিনি চায়ের দোকানে চা খাচ্ছিলেন। কিন্তু কিছু কৃষক সার না পাওয়ায় তার ওপর আগে থেকেই মনঃক্ষুণ্ন ছিলেন। আজ সেখানে তাকে পেয়ে অবরুদ্ধ করেছেন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নিয়ে এসেছে।’
কৃষকদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখব।’
উলিপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কমল কিশোর ঘোষ বলেন, ‘ওই কৃষি কর্মকর্তাকে উদ্ধারের পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তিনি সেখানে ঘুরতে গিয়ে রোষানলে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন। নিরাপত্তার জন্য ওই দোকানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। আমরা তাকে তার এক সহকর্মীর জিম্মায় হস্তান্তর করেছি।’