হোম > সারা দেশ > কিশোরগঞ্জ

ছোট্ট আলিফকে রেখে এক মাসের ব্যবধানে না ফেরার দেশে বাবা-মা

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি 

নিহত তুলি বেগম ও তাঁর সন্তান আলিফ। ছবি: সংগৃহীত

মোটরসাইকেলে ঘুরতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামী ইয়াছিন আহমেদের মৃত্যুর এক মাসের মাথায় মারা গেলেন স্ত্রী তুলি বেগম (২১)। স্বামীর মৃত্যুর পর প্রায় এক মাস ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত আজ শুক্রবার দুপুরে ঢাকার জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে মারা যান তুলি। সন্ধ্যায় স্বামীর কবরের পাশেই দাফন করা হয় তাঁকে।

এর আগে গত ১২ আগস্ট ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল বিশ্বরোডের মালিহাতা এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হন সৌদিপ্রবাসী ইয়াছিন আহমেদ (২৭)। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন তাঁর স্ত্রী তুলি বেগমও।

নিহত ইয়াছিন আহমেদ ভৈরব পৌর শহরের কমলপুর মুসলিমের মোড় এলাকার মরহুম বাক্কী মিয়ার ছেলে। তুলি বেগম শহরের স্টেডিয়াম মোড় এলাকার আক্তার হোসেনের মেয়ে।

পারিবারিক সূত্রে আরও জানা যায়, প্রায় ১৭ মাস আগে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন ইয়াছিন আহমেদ। সেখানে তিনি ফুড ডেলিভারির কাজ করতেন। গত ২৪ জুলাই ছুটিতে দেশে ফেরেন তিনি। প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর আগে তুলি বেগমের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।

গত ১২ আগস্ট বিকেল ৪টার দিকে দুই বছরের ছেলে আলিফকে বাড়িতে রেখে স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার তিতাস নদীসংলগ্ন পর্যটনকেন্দ্র মিনি কক্সবাজার এলাকায় ঘুরতে যান ইয়াছিন। ঘোরাঘুরি শেষে বাড়ি ফেরার পথে সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের মালিহাতা এলাকায় একটি ট্রাকের সঙ্গে তাঁদের মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে দুজনই গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে ইয়াছিন আহমেদের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত তুলি বেগমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়।

তুলির বোন মিতালি মিতু আজকের পত্রিকাকে বলেন, দুর্ঘটনার পর তুলি প্রায় এক মাস ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সর্বশেষ নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ শুক্রবার দুপুরে তিনি মারা যান।

মিতালি মিতু আরও জানান, আজ শুক্রবার বাদ এশা কমলপুর দারুল উলুম জামিয়া মাদ্রাসা মাঠে তুলি বেগমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে কমলপুর কবরস্থানে স্বামী ইয়াছিন আহমেদের কবরের পাশেই তাঁকে দাফন করা হয়।