সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে পরিবেশকর্মী ও স্কুল পরিচালনা কমিটির সাবেক নেতা এস এম সোহাগ হোসেনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি এবং মব তৈরি করে উদ্দেশ্যমূলক হয়রানির অভিযোগ তুলে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন চালকল মালিকেরা। আজ বুধবার সকালে উপজেলা ‘চাউল কল মালিক সমিতির’ ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
চালকল মালিকদের অভিযোগ, সোহাগ হোসেনের পক্ষ থেকে উপজেলার বিভিন্ন চালকলের লাইসেন্সের বিপরীতে মিলপ্রতি ৫০ হাজার টাকা করে বিভিন্ন সময়ে চাঁদা দাবি করা হয়েছে। উপজেলার ১৩৭টি লাইসেন্সের হিসাবে দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ প্রায় ৬৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। চাঁদা না দিলে বিভিন্নভাবে চাপ ও হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।
চালকল মালিকদের ভাষ্য, এসব চালকল, ধানের চাতাল ও মিলের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ২০ থেকে ২২ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত।
উপজেলা চাউল কল মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল মোতালেব শেখ বলেন, ‘সোহাগ হোসেন নিয়মিত চাঁদা দাবি করেন এবং চাঁদা না দেওয়ায় মিল মালিকদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আমরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এস এম সোহাগ হোসেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কিছু চালকলে পরিবেশগত ছাড়পত্র না থাকা, গার্মেন্টসের ঝুট ও পলিথিন বর্জ্য পোড়ানোসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে তিনি জেলা ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ দপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়ে আসছেন।
সোহাগ হোসেনের দাবি, তাঁর অভিযোগের পর প্রশাসনের নজরদারি শুরু হয়েছে। এ কারণে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি ইতিমধ্যেই থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসানুজ্জামান বলেন, সোহাগ হোসেনের করা জিডির পর তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে একটি এজাহার জমা হয়েছে। দুটি ঘটনাই তদন্তাধীন।
জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তুহিন আলম বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি।’
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. হারুনুর রশিদ বলেন, সোহাগ হোসেনের অভিযোগ পাওয়ার পর রায়গঞ্জে সরেজমিনে গিয়ে একাধিকবার তদন্ত করা হয়েছে। তবে অভিযোগের সঙ্গে বাস্তবতার মিল পাওয়া যায়নি।
মো. হারুনুর রশিদ আরও বলেন, উপজেলার ১৪২টি মিলের মধ্যে পাঁচটি সচল পাওয়া যায়নি। বাকি ১৩৭টি মিলের বিপরীতে প্রায় ১২ হাজার মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল সরবরাহের জন্য মিল মালিকদের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে চাঁদাবাজির অভিযোগের পাশাপাশি চালকলগুলোর পরিবেশগত অনিয়মের অভিযোগও নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবাদীরা।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) জেলা শাখার আহ্বায়ক ও সাংবাদিক দীপক কর বলেন, ‘রায়গঞ্জের পরিবেশ বিপর্যয়ের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিষয়টি প্রশাসনের বিশেষ গুরুত্বসহকারে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা উচিত।’