হোম > সারা দেশ > কিশোরগঞ্জ

যাঁরা রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন না, তাঁদের বড় কথায় বিভ্রান্ত হবেন না: প্রধানমন্ত্রী

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: আজকের পত্রিকা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমরা ৭১ সালে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। পরবর্তী সময়ে যখনই গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়েছে, জনগণ রাজপথে নেমে এসেছে, আন্দোলন করেছে, বারবার গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছে। এখন হচ্ছে আমাদের দেশ গঠন করার সময়। বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষকে সচেতন থাকতে হবে। সতর্ক থাকতে হবে। বিএনপির এই রাজনীতিতে যেন কেউ ব্যাঘাত ঘটাতে না পারে। দেশে অনেক বিভ্রান্তকারী আছে, অনেক রটনাকারী আছে। এদের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। দেখতে হবে, এরা অতীতে কী করেছে। সেই অতীত বিবেচনা করে তাদের আমাদের চোখে চোখে রাখতে হবে।’

আজ রোববার বিকেলে কিশোরগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, মেধাবী শিক্ষার্থী, অসুস্থ, দুস্থ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অনুদান এবং মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেখেছি, ৭১-এ তাদের ভূমিকা কী ছিল। ৮৬ সালে তাদের ভূমিকা কী ছিল। আমরা দেখেছি, ৯৬ সালে তাদের ভূমিকা কী ছিল। বিগত ১৭ বছর জনগণের যে আন্দোলন, সে আন্দোলনে আমরা তাদের রাজপথে দেখিনি। দেখেছিলেন আপনারা? আন্দোলনে বিএনপির সঙ্গে যে রাজনৈতিক দলগুলো মাঠে ছিল, তাদেরই নেতা-কর্মীরা অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হয়েছে। গুম-খুনের শিকার হয়েছে। আজকে যারা বড় বড় কথা বলছে, যারা জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে, তাদের আমরা রাজপথে বিগত ১৭ বছর দেখি নাই।’

কিশোরগঞ্জে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: আজকের পত্রিকা

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে এরা ‘‘সংস্কার সংস্কার’’ বলছে। বিএনপি ২০২২ সালে সংস্কারের কথা বলেছে। কোথায় ছিলেন আপনারা সংস্কার নিয়ে? এই দেশে সবচেয়ে প্রথম বিএনপি তথা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই সংস্কারের প্রস্তাবনা মানুষের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। আজকে সময় এসেছে দেশকে স্থিতিশীল রাখতে হবে। কোনো বিভ্রান্তকারীর কথায় বিভ্রান্ত হলে চলবে না। বিভ্রান্তকারীরা যদি বিভ্রান্ত করতে আসে অতীতের মতো, তাহলে তাদের সমুচিত জবাব দিতে হবে।’

তারেক রহমান আরও বলেন, ‘আমরা অতীতে অনেক সময় শুনেছি—বাংলাদেশকে অমুক রাষ্ট্রের মতো বানিয়ে ফেলব, তমুক রাষ্ট্রের মতো বানিয়ে ফেলব। আমরা বাংলাদেশকে অন্য কোনো দেশের মতো বানাতে চাই না। আমরা বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়তে চাই। যেখানে কমবেশি প্রতিটি শ্রেণির মানুষকে রাষ্ট্র তার সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা দেবে। যে রাষ্ট্রে প্রত্যেকটি মানুষ, প্রতিটি শ্রেণির মানুষ তার মর্যাদা অনুযায়ী সহযোগিতা রাষ্ট্রের কাছ থেকে পাবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তখন তিনি ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত বিনা মূল্যে নারীদের শিক্ষার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। বর্তমান সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সেই পলিসি এগিয়ে নিয়ে যাবে। নারীদের অনার্স পর্যন্ত বিনা মূল্যে পড়ালেখার সুযোগ করে দেবে। শুধু তা-ই নয়, যারা ভালো রেজাল্ট করবে, সরকারের পক্ষ থেকে তাদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করা হবে। বাংলাদেশের নারী সমাজকে শুধু শিক্ষিত হলে হবে না, তাদের আত্মনির্ভরশীল হয়ে গড়ে উঠতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম—বিএনপি সরকার গঠন করলে বাংলাদেশের কৃষক ভাইদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করব। সরকার গঠনের পরে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে ১৩ লাখ কৃষক, যাঁদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ ছিল, মওকুফ করেছি।’

তারেক রহমান বলেন, ‘কৃষকদের সুবিধার জন্য এবং একই সঙ্গে পানি সরবরাহের সুবিধার জন্য খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছি। সারা দেশে ইনশা আল্লাহ আগামী ২০ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করব।’

তারেক রহমান আরও বলেন, প্রাইমারি-সেকেন্ডারিসহ বিভিন্ন স্কুল-কলেজের প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার শিক্ষক গত চার বছর ধরে অবসর ভাতা পাননি। বিগত স্বৈরাচারের সময় সেই টাকা বিভিন্নভাবে আত্মসাৎ করা হয়। বিএনপি সরকার গঠন করার পরে গতকাল শনিবার এই ১ লাখ ২৩ হাজার শিক্ষকের পেনশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের ৫৫৩টি উপজেলায় এখন যে ৫০ শয্যার হাসপাতাল আছে, সেগুলোকে ১৫১ বেডের হাসপাতালে রূপান্তর করা হবে, যাতে খুব সিরিয়াস অসুখ না হলে কারও জেলা হাসপাতালে যাওয়া না লাগে।

তারেক রহমান বলেন, ‘কিছুদিন আগে দেখেছেন, চায়নার সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। চায়না এ দেশে অনেকগুলো কলকারখানা তৈরি করবে। যে কলকারখানায় আমাদের দেশের ছেলেমেয়েদের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। আর এগুলো যদি বাস্তবায়ন করতে হয়, তাহলে অবশ্যই আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে। অবশ্যই দেশের মধ্যে শান্তি রাখতে হবে। এখন মানুষ পরিবর্তন চায়।’

সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম ও কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন।

কিশোরগঞ্জে দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে বৃক্ষ রোপণ করেন তারেক রহমান।