হোম > সারা দেশ > কিশোরগঞ্জ

ভৈরবে হোল্ডিং ট্যাক্স ৪০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রতিবাদে মানববন্ধন

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি 

আজ বেলা ১১টায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুর্জয় মোড় এলাকার নূরানী মসজিদের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌরসভার হোল্ডিং ট্যাক্স ৪০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রতিবাদ এবং পৌরসভার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্থবিরতার অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

আজ রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুর্জয় মোড় এলাকার নূরানী মসজিদের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন এনসিপির কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল হক জয়, গণঅধিকার পরিষদের নেতা ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল, সমাজকর্মী এন কে সোহেল, এনসিপির ভৈরব উপজেলা শাখার আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক, ডালিয়া বেগম ও সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল মিয়াসহ অনেকে।

বক্তারা বলেন, সাধারণ নাগরিকদের না জানিয়ে হঠাৎ পৌরকর ৪০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কার পরামর্শে এবং কাদের স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, একজন অনির্বাচিত প্রশাসকের পক্ষে এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া সমীচীন নয়। পৌরসভায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা দায়িত্ব নেওয়ার আগ পর্যন্ত কর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখার দাবি জানান তাঁরা।

বক্তারা আরও বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ এমনিতেই অর্থনৈতিক চাপে রয়েছেন। অনেক পরিবার নিয়মিত বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিল পরিশোধ করতেও হিমশিম খাচ্ছে। এ অবস্থায় নতুন করে করের বোঝা চাপানো হলে নাগরিকদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

তাঁরা দাবি করেন, গত ১৭ বছরে পৌরসভায় দায়িত্ব পালন করা বিভিন্ন নির্বাচিত মেয়র জনগণের ওপর এ ধরনের অতিরিক্ত করের চাপ সৃষ্টি করেননি। তাই অবিলম্বে কর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানান তাঁরা। অন্যথায় কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।

তবে পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, নিয়ম অনুযায়ীই হোল্ডিং ট্যাক্স পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

ভৈরব পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম মামুনুর রশীদ বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর পরপর হোল্ডিং ট্যাক্সের পুনর্মূল্যায়ন (রি-অ্যাসেসমেন্ট) করতে হয়। চলতি বছর পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ায় সেই প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ট্যাক্স আদায়ের পরিমাণের ওপর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ নির্ভর করে। চলতি অর্থবছরে প্রায় ৮০ কোটি টাকার বাজেটের বিপরীতে পৌরকর থেকে আয় হচ্ছে পাঁচ কোটি টাকারও কম। অথচ নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী হিসাব করলে কর আদায়ের পরিমাণ প্রায় ১৮ কোটি টাকা হওয়ার কথা।’

ইউএনও আরও বলেন, পৌরসভার অনেক হোল্ডিংয়ের তথ্য ও কর নির্ধারণে অসঙ্গতি রয়েছে। সেগুলো সংশোধনের জন্যই পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে। নোটিশ পাওয়ার পর নাগরিকদের আপত্তি জানানোর সুযোগ রয়েছে। আপত্তি গ্রহণ করে শুনানির মাধ্যমে বিষয়গুলো পুনর্বিবেচনাও করা হচ্ছে।