হোম > সারা দেশ > কিশোরগঞ্জ

নিকলীতে ইউএনও-এসি ল্যান্ড-ওসি নেই, চরম সংকট শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতেও

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের নিকলীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসিল্যান্ড এবং থানার ওসির পদ শূন্য থাকায় প্রশাসনিক, ভূমিসংক্রান্ত, আইনশৃঙ্খলা সেবা কার্যক্রমে চরম স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে অভিভাবকহীন অবস্থায় রয়েছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সও। এতে কাঙ্ক্ষিত সেবা বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা।

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র বলছে, চলতি বছরের জুলাইয়ে থানার ওসি বদলি হওয়ার পর থেকে একজন পরিদর্শক (তদন্ত) ভারপ্রাপ্ত হিসেবে থানার কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন। অন্যদিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ গত ১৭ মে বদলি হন। তাঁর বদলির পর থেকে ইউএনও রেহেনা মজুমদার মুক্তি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। গত ২৫ আগস্ট রেহেনা মজুমদার মুক্তির মাতৃত্বজনিত ছুটি ও বদলি হলে উপজেলার তিনটি দপ্তর কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

প্রশাসনের পাশাপাশি উপজেলার শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলা ডিগ্রি কলেজ, সরকারি মডেল হাই স্কুলসহ অন্তত ছয়টি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষ নেই। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে এই শূন্যতা এক বছর থেকে শুরু করে ৯ বছর পর্যন্ত দীর্ঘ হয়েছে। নাজুক অবস্থা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমেও। উপজেলার ৬০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অর্ধেকই চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে।

স্বাস্থ্যসেবার হাল আরও নাজুক। ২৯ জন চিকিৎসকের বিপরীতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিত রোগী দেখছেন মাত্র ৭ জন। ফলে হাওরাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষকে জরুরি চিকিৎসার জন্য ছুটতে হচ্ছে দূর-দূরান্তে। এতে করে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ বাড়ছে।

স্থানীয়দের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও সেবা প্রদানকারী পদগুলোতে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কর্মকর্তা নিয়োগ না দিলে উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম, আইনশৃঙ্খলা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। তাই জনস্বার্থে দ্রুত সময়ে পদগুলো পূরণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন তাঁরা।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, ইউএনও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, আগামী রোববার যোগদান করবেন। এ ছাড়া এসিল্যান্ডসহ শূন্য পদগুলোতে কর্মকর্তা পদায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।