কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে মো. মোক্তার উদ্দিন (৬২) নামে সাবেক ইউপি সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার গোপদিঘী ইউনিয়নের নতুন চাঁনপুর গ্রাম থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের দাবি, তাঁকে হত্যা করে আত্মহত্যা হিসেবে সাজানো হয়েছে। পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
নিহত মোক্তার উদ্দিন নতুন চাঁনপুর গ্রামের মৃত আবদুল কাদিরের ছেলে। তিনি গোপদিঘী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য।
নিহতের ভাতিজা মো. আইকন মিয়া বলেন, চাচাতো ভাই এনামুল হক বাড়িতে না থাকায় তাঁর বসতঘরে কয়েক দিন ধরে রাত কাটাতেন মোক্তার উদ্দিন। ফজরের নামাজ পড়ে এরপর তিনি নিজের ঘরে ফিরতেন।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, আজ বুধবার ফজরের নামাজের সময় পার হয়ে গেলেও মোক্তার উদ্দিন বাড়িতে না ফেরায় স্বজনেরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
একপর্যায়ে স্ত্রী মাফুজা আক্তার কলি এনামুল হকের বসতঘরে গলায় দড়ি পেঁচানো অবস্থায় মোক্তার উদ্দিনকে ঝুলতে দেখেন। তাঁর চিৎকার ও কান্না শুনে স্বজন ও এলাকাবাসী সেখানে যান। পরে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে তাঁর নিথর দেহ নামানো হয়।
আইকন মিয়ার দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যা। তিনি বলেন, মরদেহ নামানোর পর তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। হয়তো তাঁকে হত্যার পর ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে।
আইকন মিয়া জানান, কিছুদিন আগে মোক্তার উদ্দিন একটি এবতেদায়ী মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার জন্য ঘর তৈরি করেছিলেন। সেই ঘরে আগুন দেওয়া ও ভাঙচুর করা হয়েছিল। পূর্বশত্রুতার জেরে তাঁকে হত্যা করা হতে পারে।
মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার মাহমুদ বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, কোনোটিই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।