ইউরোপের উদ্দেশে লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিসে যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে ট্রলারডুবিতে কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার বায়জিদ চৌধুরী (২৩) নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার। ১৪ সেপ্টেম্বরের এ ঘটনায় বায়জিদের মরদেহ এখনো পাওয়া যায়নি।
নিহত বায়জিদ চৌধুরী ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আদর্শপাড়া গ্রামের মো. সাব মিয়ার ছেলে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উন্নত জীবন ও পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় প্রায় দুই মাস আগে এলাকার আরও দুই যুবকের সঙ্গে লিবিয়া যান বায়জিদ। পরে ১৪ সেপ্টেম্বর অন্য অনেকের সঙ্গে গ্রিসের উদ্দেশে একটি ট্রলারে সাগরপথে রওনা হন তিনি।
যাত্রাপথে ভূমধ্যসাগরে বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল ঢেউয়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। ট্রলারে থাকা বহু অভিবাসী হতাহত ও নিখোঁজ হন। গতকাল শনিবার বিভিন্ন মাধ্যমে বায়জিদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হন তাঁর স্বজনেরা।
মৃত্যুর খবর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর পর পরিবারে শোক নেমে আসে। প্রাণপ্রিয় সন্তান হারিয়ে বাক্রুদ্ধ হয়ে পড়েছেন বায়জিদের মা-বাবা।
নিহত বায়জিদের চাচা আল আমিন বলেন, তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে বায়জিদ ছিলেন দ্বিতীয়। তাঁর বড় ভাই রায়হান ইতালিতে বসবাস করেন।
আল আমিন বলেন, বায়জিদের সঙ্গে আরও দুই যুবক উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের শম্ভুপুর আলুকান্দা এলাকার দালাল সোহাগ মিয়ার মাধ্যমে সৌদি আরব হয়ে লিবিয়ায় যান। তাঁদের মধ্যে একজন পুলিশের হাতে ধরা পড়ে দেশে ফিরে এসেছেন এবং অন্যজন সাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিতে পৌঁছেছেন।
আল আমিন আরও বলেন, ‘আমার ভাতিজা ১৪ সেপ্টেম্বর গ্রিসের উদ্দেশে সাগরপথে ট্রলারে যাত্রা করে। ওই দিন রাত ১১টার দিকে ট্রলারডুবির ঘটনায় অনেকের সঙ্গে বায়জিদও নিখোঁজ হয়। আমরা এখনো তার মরদেহের সন্ধান পাইনি। তবে দালালের মাধ্যমেই মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। আমরা চাই, সরকার উদ্যোগী হয়ে বায়জিদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনুক।’
ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম মামুনুর রশীদ বলেন, ‘সাংবাদিকদের মাধ্যমে লিবিয়াগামী ট্রলারডুবিতে বায়জিদ নামের এক যুবকের মৃত্যুর বিষয়টি জেনেছি। নিহত বায়জিদের পরিবার মরদেহ দেশে আনতে চাইলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।’