কিশোরগঞ্জে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপসহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুল ইসলামকে (৪০) কার্যালয়ে ঢুকে মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানের চার কর্মচারীর বিরুদ্ধে।
আজ বুধবার দুপুরে কিশোরগঞ্জ পাউবো কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী প্রকৌশলী চার কর্মচারীর নাম উল্লেখ করে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
অভিযুক্ত কর্মচারীরা হলেন উচ্চমান সহকারী সোয়াইব আহমেদ (৪২), নথি সরবরাহকারী আবু বকর সিদ্দিক (৫৫), কার্যসহকারী জাকির হোসেন (৩৬) ও ইশতিয়াক আহমেদ (৩৮)।
অভিযোগপত্র ও ভুক্তভোগীর কথা থেকে জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে একটি সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতার সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের দোহাই দিয়ে মাহমুদুল ইসলামের কাছে চাঁদা দাবি করেছিলেন অভিযুক্তরা। তখন তিনি টাকা দিতে না চাইলে তাঁদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে আজ দুপুরে মাহমুদুল ইসলামের দপ্তরে গিয়ে অভিযুক্ত কর্মচারীরা আবার চাঁদার দাবি তোলেন। এতে সায় না দেওয়ায় তাঁকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মেরে আহত করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
পরে কার্যালয়ের অন্য কর্মীরা এসে তাঁকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
ভুক্তভোগী মাহমুদুল ইসলাম বলেন, অফিসের ভেতর ঢুকে আমার ওপর হামলা করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড কিশোরগঞ্জের উপসহকারী প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম ও ইয়াসীন খান বলেন, চাকরিজীবনেও দেখেননি এ ঘটনা।
তবে চাঁদাবাজির কথা অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত জাতীয়তাবাদী শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, কিশোরগঞ্জের সভাপতি ও উচ্চমান সহকারী সোয়াইব আহমেদ। তাঁর দাবি, সিবিএ-সংক্রান্ত বিষয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে উপসহকারী প্রকৌশলীই প্রথম চড়াও হন। ধাক্কাধাক্কির সময় হয়তো তিনি কিছুটা আঘাত পেয়ে থাকতে পারেন। তবে কেউ তাঁকে পরিকল্পিতভাবে মারধর করেনি। ঘটনাটি ভিন্নভাবে সাজানো হচ্ছে।
কিশোরগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মুন্সী আমির ফয়সাল জানান, বিষয়টি তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। নির্দেশনা অনুযায়ী ও তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঁইয়া বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।