‘কিশোরগঞ্জে এইচআইভিতে আক্রান্ত ২৬ জন, সরকারি হিসাবে শূন্য’ শিরোনামে আজকের পত্রিকার অনলাইনে প্রতিবেদন প্রকাশের পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য যাচাই করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। যাচাই শেষে ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত কিশোরগঞ্জে দুজনের এইচআইভি শনাক্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন জেলার সিভিল সার্জন মোহাম্মদ সাইদুর রহমান।
সিভিল সার্জন জানান, সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত জেলায় দুজনের এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। দুজনই শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শনাক্ত হন।
সিভিল সার্জন বলেন, ‘গতকাল জানা ছিল না। সরকারি হিসাবে দুজনের তথ্য রয়েছে। আর বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি নামের একটি আন্তর্জাতিক সমাজসেবী সংস্থা আমাদের জানিয়েছে, তারা ২৬ জনকে শনাক্ত করেছে।’
এর আগে বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি জানিয়েছিল, ২০২০ থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত কিশোরগঞ্জে ২৬ জন এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছেন। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের মধ্যে ২২ জন ভৈরব কার্যালয়ের আওতাধীন ভৈরব, কুলিয়ারচর, বাজিতপুর, নিকলী, অষ্টগ্রাম ও কটিয়াদী উপজেলা থেকে এবং চারজন কিশোরগঞ্জ কার্যালয়ের আওতাধীন বাকি সাত উপজেলা থেকে শনাক্ত হয়েছেন।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত সংস্থাটির হিসাবে জেলায় নয়জন এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন ভৈরব কার্যালয়ের আওতাধীন এলাকা এবং চারজন কিশোরগঞ্জ কার্যালয়ের আওতাধীন এলাকার।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, সংস্থাটি ২০১০ সাল থেকে কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় এইচআইভি পরীক্ষা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে শনাক্ত ব্যক্তিদের পরিচয় বা তাঁদের বসবাসের নির্দিষ্ট এলাকা প্রকাশ করেনি সংস্থাটি। সংস্থাটির ভাষ্য, এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিদের পরিচয় অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গোপনীয়। তাই গোপনীয়তা রক্ষা করেই তাঁদের পরীক্ষা করা হয়েছে।
সিভিল সার্জন বলেন, সরকারি ও সংস্থাটির তথ্যের মধ্যে পার্থক্যের কারণ জানতে হলে শনাক্ত ব্যক্তিদের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। তবে গোপনীয়তার কারণে সংস্থাটি রোগীদের বিস্তারিত প্রোফাইল না দেওয়ায় দুই হিসাবের মধ্যে কারা অভিন্ন, তা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
সিভিল সার্জন আরও বলেন, আক্রান্তদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা ও সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় সংস্থাটি সিভিল সার্জন কার্যালয়কে শুধু আক্রান্তের সংখ্যা জানিয়েছে; কোনো বিস্তারিত প্রোফাইল বা পরিচয় হস্তান্তর করেনি। ফলে সরকারি পরিসংখ্যানে থাকা দুজন রোগী সংস্থাটির হিসাবের আওতাভুক্ত কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।