কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গিয়ে নিজের মা হালিমাকে (৬৫) হত্যার অভিযোগে তাঁর মেয়ে ও মামলার বাদী চাম্পাকে (৪৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পিবিআই বলছে, জিজ্ঞাসাবাদে চাম্পা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পরে কিশোরগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম বুলবুলের আদালতে ১৮ আগস্ট তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে পিবিআই কিশোরগঞ্জ কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ আল মাসুদ।
পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১৩ মার্চ রাতে করিমগঞ্জ উপজেলার সিন্ধ্রীপ গ্রামের হালিমাকে হত্যা করা হয়। পরদিন ১৪ মার্চ বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ গজ উত্তরে একটি পতিত জমি থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের মাথার অংশ মাটিতে পোঁতা ছিল। গলায় সাদা রশি প্যাঁচানো এবং মুখে রক্তাক্ত জখমের চিহ্ন ছিল।
এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে চাম্পা বাদী হয়ে প্রতিবেশী বিল্লালসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করে করিমগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে মামলাটির তদন্তভার পিবিআই কিশোরগঞ্জ জেলা গ্রহণ করে।
পিবিআই কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ আল মাসুদের তত্ত্বাবধানে পরিদর্শক মো. আশরাফুল আলমের নেতৃত্বে একটি দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে মামলার বাদী চাম্পার কথাবার্তায় অসংগতি পাওয়া যায়। পরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসে বলে জানিয়েছে পিবিআই।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, প্রায় ৩০ বছর আগে হালিমা প্রতিবেশী বিল্লালের কাছ থেকে সাড়ে তিন শতাংশ জমি কেনেন। তবে ওই জমির কোনো দলিল ছিল না। পরে বিল্লাল জমিটি দুলাল নামের আরেক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেন। এরপর দুলাল হালিমার বিরুদ্ধে উচ্ছেদ মামলা করেন। এর জেরে হালিমাও বিল্লাল ও দিলুর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র হয়।
পিবিআই কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার প্রায় ১৫ দিন আগে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বিল্লাল হালিমাকে মারধর করেন। পরে হালিমাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন চাম্পা সহযোগীদের সঙ্গে পরামর্শ করে মাকে হত্যা করে ওই হত্যাকাণ্ডের দায় প্রতিপক্ষ বিল্লালদের ওপর চাপানোর পরিকল্পনা করেন। এতে জমিটি পাওয়ার পথ সহজ হবে বলে তাঁরা মনে করেছিলেন।
তদন্তে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি আরও বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৩ সালের ১৩ মার্চ রাত ১১টার দিকে চাম্পা ও তাঁর সহযোগীরা হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে আসা হালিমাকে মারামারির বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। পরে তাঁকে হত্যা করে মরদেহের মাথার অংশ মাটিতে পুঁতে রাখা হয়। পরদিন চাম্পা নিজেই বাদী হয়ে বিল্লালসহ অন্যদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে পিবিআইয়ের পরিদর্শক আশরাফুল আলম, পরিদর্শক খাইরুল বাসার ও পরিদর্শক নবী হোসেনসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।