কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পুলিশের হেফাজত থেকে হাতকড়াসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা রেনু মিয়া পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। একই সঙ্গে কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিনকে ক্লোজড (প্রত্যাহার) করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে কুলিয়ারচর থানার এসআই শরাফিন মিয়া বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় ১৫ জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
আসামিরা হলেন ছয়সূতি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. রেনু মিয়া (৪৮), মনির হোসেন, সজিব মিয়া, মো. তারেক, তাহমুদা বেগম, রাবিয়া বেগম, তামান্না বেগম, পাখি বেগম, সামিকা বেগম, সেলিনা বেগম, সুফিয়া বেগম, ইতি আক্তার (২৩), সাদিয়া (২০), আকলিমা আক্তার (২৬) ও রত্না (৩০)। তাঁদের মধ্যে রেনু মিয়াসহ এজাহারে নাম থাকা গ্রেপ্তার আসামিদের আজ দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গতকাল সোমবার দুপুরে রেনু মিয়াকে গ্রেপ্তারের পর হাতকড়া পরানো হয়। এ সময় তাঁর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হন। একপর্যায়ে তাঁরা পুলিশকে ঘেরাও করে ধস্তাধস্তির মাধ্যমে রেনু মিয়াকে হাতকড়াসহ ছিনিয়ে নেন। এ সময় পুলিশের কয়েকজন সদস্য আহত হন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে রেনু মিয়াকে পুনরায় গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। একাধিক দল নিয়ে অভিযান চালিয়ে রাত ১০টার দিকে মাধবদী এলাকায় তাঁকে হাতকড়াসহ পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়।
জানা গেছে, রেনু মিয়াকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর পরিবারের সদস্য, স্বজনসহ সাত নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে ইতি আক্তার, সাদিয়া, আকলিমা আক্তার ও রত্নাকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। অন্য তিন নারীর বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় তাঁদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, প্রশাসনিক কারণে কুলিয়ারচর থানার ওসি কাজী আরিফ উদ্দিনকে ক্লোজড করা হয়েছে। হাতকড়াসহ আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তাঁকে শোকজও করা হয়েছে।