কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের কাজীরচর গ্রামে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ নিয়ে চুনাপাথর কারখানা চালুর চেষ্টা করছিল একটি পক্ষ। এ সময় মূল পাইপলাইনে লিকেজ সৃষ্টি হলে গ্যাস নির্গমণ শুরু হয়। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে কারখানাটি উচ্ছেদ করে। এ সময় কারখানার তিনটি চুল্লি ভেঙে ফেলা হয় এবং মজুত চুনাপাথর জব্দ করা হয়। পাইপলাইনের লিকেজ বন্ধে কাজ করছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।
আজ সোমবার দুপুর ১টার দিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাবনী আক্তার তারানা এ অভিযান পরিচালনা করেন। তিনি বলেন, অবৈধভাবে একটি চুনাপাথর কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তবে কারখানাটি চালু করা সম্ভব হয়নি। সেখানে তিনটি চুল্লি নির্মাণ করা হয়েছিল এবং চুনাপাথর মজুত রাখা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল তিতাসের পাইপলাইন থেকে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ নিয়ে কারখানা চালানো। কিন্তু সংযোগ নেওয়ার সময়ই দুর্ঘটনা ঘটে এবং পাইপলাইন থেকে গ্যাস বের হতে শুরু করে।
লাবনী আক্তার তারানা বলেন, ভবিষ্যতে যাতে কারখানাটি আর চালু করা না যায়, সে জন্য চুল্লিগুলো সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয়েছে। জব্দ করা চুনাপাথর ও চুল্লির ইট স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের জিম্মায় রাখা হয়েছে। সরকারি বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা প্রশাসনের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, এ ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজনের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। জমির মালিক অবৈধভাবে কারখানা স্থাপনের জন্য অনানুষ্ঠানিকভাবে জমি ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছিলেন। তবে পুরো কার্যক্রমের কোনো বৈধ অনুমোদন বা লাইসেন্স ছিল না। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, আড়িয়াল খাঁ নদের তলদেশ দিয়ে যাওয়া তিতাস গ্যাসের প্রধান সঞ্চালন পাইপলাইন থেকে অবৈধভাবে চুনাপাথর কারখানায় গ্যাস সংযোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় পাইপলাইনে লিকেজ সৃষ্টি হলে গ্যাস নির্গমন শুরু হয়। প্রথম দিকে পানিতে বুদবুদ দেখে স্থানীয়রা বিষয়টিকে স্বাভাবিক মনে করলেও পরে বুদবুদের পরিমাণ বেড়ে গেলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় কয়েকজন বিষয়টি তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে জানালে তদন্তে অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিষয়টি সামনে আসে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর কারখানাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পাওয়া যায়নি। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
মসূয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক বলেন, কারখানাটি স্থাপনের আগে তাঁর কাছ থেকে কোনো ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া হয়নি এবং তাঁকে অবহিতও করা হয়নি। গ্যাস লিকেজের ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, এটি একটি অবৈধ কারখানা। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে যারা জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, নরসিংদী থেকে কিশোরগঞ্জে গ্যাস সরবরাহের প্রধান উচ্চচাপের পাইপলাইন থেকে এখনও গ্যাস নির্গত হচ্ছে।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক ধারণা, উচ্চচাপের পাইপলাইন থেকে চুরি করে নদীর পাশের নবনির্মিত চুনাপাথর কারখানায় গ্যাস সংযোগ নেওয়ার সময়ই পাইপলাইনে লিকেজ সৃষ্টি হয়েছে। লিকেজ বন্ধে তাদের কাজ চলমান রয়েছে।