হোম > সারা দেশ > কিশোরগঞ্জ

ছেলেকে বিদেশ পাঠাতে নেওয়া ঋণের চাপে মায়ের আত্মহত্যা

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি 

নিহতের বাড়িতে স্বজন-প্রতিবেশীর ভিড়। ছবি: সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে হনুফা বেগম (৪৫) নামের তিন সন্তানের এক জননীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ রোববার সকালে পৌর শহরের ভৈরবপুর উত্তরপাড়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

হনুফা বেগম ওই এলাকার রিকশা গ্যারেজের মেকানিক আক্রাম হোসেনের স্ত্রী।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হনুফা বেগমের দুই ছেলে ও এক মেয়ে। ছোট ছেলে সায়মন ও মেয়ের জামাইকে বিদেশে পাঠাতে বিভিন্ন এনজিও ও আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধারদেনা করে টাকা জোগাড় করেন তিনি। পরে ছোট ছেলে বিদেশে গিয়ে সুবিধা করতে না পারায় বড় ছেলে ইমরানকে বিদেশ পাঠানোর জন্য এক দালালকে টাকা দেন। তবে ওই দালাল ছেলেকে বিদেশে পাঠাতে পারেননি। দালালকে দেওয়া টাকাও ফেরত না পাওয়ায় আর্থিক সংকটে পড়েন হনুফা।

এদিকে এনজিওর কিস্তি ও পাওনাদারদের চাপ বাড়তে থাকায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।

নিহতের ভাই জামাল মিয়া বলেন, আজ রোববার ভোরে হনুফা তাঁর স্বামীর সঙ্গে টাকা ধার করার জন্য বিভিন্ন জায়গায় যান। কোথাও টাকা জোগাড় করতে না পেরে সকালে বাড়িতে ফিরে নিজ ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে ঘরের ভেতর ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। গত কয়েক দিন ধরেই তিনি টাকা ধার করার চেষ্টা করছিলেন।

জামাল মিয়া আরও বলেন, হনুফা বিভিন্ন এনজিও ও আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা ধার করেছিলেন। কিস্তি পরিশোধ ও পাওনাদারদের চাপের কারণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে সহায়তা ও সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে রক্ষা করতে পারেননি।

ভৈরব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাফিজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ঋণজনিত চাপের বিষয়টি জানা গেছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।