হোম > সারা দেশ > খুলনা

সুন্দরবনে নৌকাডুবি, ৯ পর্যটককে জীবিত উদ্ধার

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

সুন্দরবনের শিঙের টেক-সংলগ্ন রাই নদীতে ডুবে যাওয়া পর্যটকবাহী একটি বোটসহ ৯ জনকে উদ্ধার করে নৌ পুলিশ ও কোস্ট গার্ড দল। ছবি: ভিডিও থেকে

খুলনার কয়রা এলাকায় সুন্দরবনের শিঙের টেক-সংলগ্ন রাই নদীতে ডুবে যাওয়া পর্যটকবাহী একটি বোটসহ ৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আংটিহারা নৌ পুলিশ ও কোস্ট গার্ড দল এদের উদ্ধার করে।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন নৌকার মাঝি সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নাপিতখালী এলাকার কিসমত আলী (৪৮), নাঈম হোসেন (২২), রাকিবুল হাসান (১৮), মো. আশিক (২৫), মো. পলাশ হোসেন (২৩), মো. শাহীন (২৫), ইমামুল হোসেন (২৫), যশোরের বেনাপোল পৌরসভার কাগজপুকুর এলাকার মো. গালিব (২৫) ও মো. আবদুল্যাহ (২২)।

পুলিশ পরিদর্শক (গণমাধ্যম ও জনসংযোগ কর্মকর্তা, জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯) আনোয়ার সাত্তার জানান, ৮ জন পর্যটক সাতক্ষীরার শ্যামনগরের নাপিতখালী থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় সুন্দরবনের শিঙের টেকে পৌঁছানোর পর নৌকার তলদেশ ফুটো হয়ে পানি উঠতে শুরু করে। পরে জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ থেকে সংবাদ পেয়ে বাগেরহাট নৌ পুলিশ এবং মোংলা কোস্ট গার্ডের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থল থেকে নৌকাটির মাঝিসহ ৯ জনকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেয়।

উদ্ধারের পর পর্যটকেরা নৌ পুলিশকে জানান, গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) বেলা আড়াইটার দিকে শ্যামনগরের নাপিতখালী এলাকা থেকে কয়রার আংটিহারা ও সুন্দরবনের আশপাশের এলাকা ঘুরতে তারা নৌকায় রওনা হন। ঘোরাঘুরি শেষে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে শিঙের টেক এলাকায় নদীর মাঝামাঝি পৌঁছালে হঠাৎ নৌকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যায়। একপর্যায়ে নৌকাটি ডুবে গেলে তাঁরা নদীতে পড়ে যান।

নৌকাডুবির স্থানটি সুন্দরবনের কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনের আন্দারমানিক টহল ফাঁড়ির আওতাধীন। কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা নাসির উদ্দীন জানান, নৌকাডুবির স্থানটি শাকবাড়িয়া ও আড়পাঙ্গাশিয়া নদীর মোহনা। ব্রিটিশ আমলের মানচিত্রে ওই স্থান রাই নদ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নদীটি লোকালয়ের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সেখানে নিয়মিত নৌযান চলাচল করে।

নাসির উদ্দীন বলেন, বর্তমানে সুন্দরবনে বন্য প্রাণীর প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে বনজীবী ও পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে লোকালয়ের পাশের নদীপথে চলাচলে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। ওই নৌকাও মূলত লোকালয়ের পাশের নদীপথ দিয়েই চলাচল করছিল।