খুলনা মহানগরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করায় তা মোকাবিলা নিয়ে বিএনপি ও খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছে। মহানগর বিএনপি গত সোমবার জরুরি সভায় এই পরিস্থিতির জন্য কেসিসির ‘ব্যর্থতাকে’ দায়ী করা হয়। এর পরদিন গতকাল মঙ্গলবার সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু দলের প্রতি এ ধরনের মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তাঁর ভাষ্য, এ ধরনের অযৌক্তিক অভিযোগ করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা করা হচ্ছে।
যদিও মহানগর বিএনপি জরুরি সভার পর গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে সিটি করপোরেশনকে দায়ী করার অবস্থান পরিবর্তন করেছে। গতকাল সংবাদ সম্মেলন করে মহানগর সভাপতি ও খুলনা ওয়াসার চেয়ারম্যান শফিকুল আলম মনা বলেন, ‘আমরা কাউকে দায়ী করছি না, সবাই যাঁর যাঁর জায়গা থেকে কাজ করছেন।’ জরুরি সভায় মহানগর সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকলেও তিনি উপস্থিত ছিলেন না বলে জানান।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু খুলনা বিএনপির একজন প্রবীণ রাজনীতিক এবং সাবেক সংসদ সদস্য। তিনি একসময় দলের মহানগর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ (খুলনা সদর ও সোনাডাঙ্গা) আসনে নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে ধানের শীষের প্রার্থী করে বিএনপি। কিন্তু মহানগর কমিটির নেতাদের অসহযোগিতার কারণে প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শেখ জাহাঙ্গীর হোসাইন হেলালের কাছে তাঁকে পরাজিত হতে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্বাচনের পর গত ফেব্রুয়ারিতে তাঁকে খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার।
এদিকে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও রোগীদের সহায়তার বিষয়ে জানাতে খুলনা প্রেসক্লাবে মহানগর বিএনপি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাব দেন সভাপতি শফিকুল আলম মনা। এ সময় তাঁর কাছে সাংবাদিকেরা জানতে চান, জাতীয় নির্বাচনের বিরোধের প্রভাব আগামী সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে পড়বে কি না?
এ বিষয়ে সরাসরি কোনো উত্তর না দিয়ে শফিকুল আলম মনা বলেন, ‘গতকাল (সোমবার) মিটিংয়ে আমি ছিলাম না। এটা নিয়ে কিছু বলতে পারব না। তবে আজ (মঙ্গলবার) আমরা কারও সঙ্গে বিরোধ করার জন্য প্রেস কনফারেন্স করছি না। আমরা কাউকে দায়ী করছি না। সবাই যাঁর যাঁর জায়গা থেকে কাজ করছেন।’
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, স্থানীয় স্কুল-কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সহযোগিতায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ক্যাম্পেইন ও প্রয়োজনীয় রক্ত সংগ্রহ কাজ করছে। এ ছাড়া চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম বাবলুর নেতৃত্বে মেডিকেল পর্ষদ গঠন করা হয়।
জানতে চাইলে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘মিটিংয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সঠিক নয়। এটি একটি জনগণের প্রতিষ্ঠান। কাজেই এ ধরনের অভিযোগ করা অযৌক্তিক। দলের কিছু মানুষ ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা করছেন। কিন্তু তাঁরা সফল হবেন না। এসব মিথ্যা অভিযোগ না তুলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নগর উন্নয়নে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে কেসিসি তিন মাস ধরে ২১টি ওয়ার্ডে নিরলস কাজ করছে।’
এদিকে খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ জাহাঙ্গীর হোসাইন হেলাল দলের একটি সভায় অভিযোগ করেন, নগরবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা সিটি করপোরেশনের অন্যতম দায়িত্ব। অথচ ডেঙ্গু মোকাবিলায় নিয়মিত মশকনিধন কর্মসূচি পরিচালনা এবং প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা দেখা যাচ্ছে। এতে নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় খুলনা বিভাগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ২০২ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে অদ্যাবধি খুলনা বিভাগে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮০৬ জনে। এ পর্যন্ত মারা গেছে ১৬ জন।