খুলনার রূপসার দারুস সালাম জামে মসজিদের হেফজখানার শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর বাবা গতকাল বৃহস্পতিবার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
গত বুধবার বিকেলে মসজিদের হেফজখানায় রেখে আব্দুল্লাহকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযোগটি অস্বীকার করে শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান দাবি করেন তাকে শাসন করা হয়েছে।
অভিযোগে শিক্ষার্থীর বাবা মো. ইসরাইল হোসেন দাবি করেন, রূপসা উপজেলার বাগমার গ্রামের গরুর হাটসংলগ্ন দারুস সালাম জামে মসজিদের হেফজখানায় আব্দুল্লাহ লেখাপাড়া করে। মাদ্রাসার শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান মাঝেমধ্যেই সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে ছাত্রদের মারধর করে থাকেন। গত বুধবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে তাঁর ছেলেকে মারধর করা হয়। পরবর্তী সময় ওই শিক্ষার্থীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
মাদ্রাসার অভিযুক্ত ওই শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, ‘আব্দুল্লাহ প্রায়ই দুষ্টুমি করে। পড়া লেখা ঠিকমতো করে না। গত সপ্তাহে পাঁচ দিন ক্লাস করেনি। বুধবার দুপুরে ক্লাসে এসেও দুষ্টুমি করে। আমি তাকে পাশে বসিয়ে কোরআন পড়তে বলি। কিন্তু না পড়ে চুইংগাম চিবাচ্ছিল।’
মিজানুর রহমান বলেন, ‘কথা না শোনায় তাকে দুইটা থাপ্পড় মারি। আসরের পর অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে খেলাধুলাও করেছিল। মাগরিবের পর থেকে তাকে আর মাদ্রাসায় পাওয়া যায়নি। এশার নামাজের সময় আব্দুল্লাহর বাবা ফোন করে আমাকে গালমন্দ করে বলেন, “আমার ছেলের মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে দিয়েছেন।”’
রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজ্জাক মীর বলেন, ‘হেফজখানায় মারধরের বিষয়ে থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন শিক্ষার্থীর বাবা। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’