খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনের সহকারী রেজিস্ট্রার ইউসূফ রায়হানের বিরুদ্ধে ডিসিপ্লিনপ্রধান ও কোর্স কো-অর্ডিনেটরের স্বাক্ষর জাল করে মোটা অঙ্কের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এক্সিকিউটিভ এমবিএ (ইএমবিএ) প্রোগ্রামের ফান্ডের প্রায় ১৮ লাখ টাকা নিয়ে তিনি বর্তমানে পলাতক। এ ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার শিক্ষার্থীরা সেমিস্টার রেজিস্ট্রেশনের তথ্য যাচাই করতে গেলে জালিয়াতির এ ঘটনা জানাজানি হয়।
ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. নূর আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘সহকারী রেজিস্ট্রার আমার ও কোর্স কো-অর্ডিনেটরের স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিয়েছেন। এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের সেমিস্টার ফি, পরীক্ষার ফিসহ অন্যান্য খাতের অর্থ রয়েছে।’
ড. মো. নূর আলম জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে তদন্ত প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করার কথা রয়েছে। প্রতিবেদন দাখিলের পর কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভুক্তভোগী কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইএমবিএ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীরা নিয়মিতভাবে সহকারী রেজিস্ট্রার ইউসূফ রায়হানের মাধ্যমে সেমিস্টার ও পরীক্ষার ফি জমা দিতেন।
জাওয়াদ নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা বরাবরই রায়হানের মাধ্যমে ফি দিয়ে আসছি। এবারও দিয়েছি। কিন্তু রেজিস্ট্রেশন চেক করতে গিয়ে দেখি টাকা জমা হয়নি এবং কোর্স সম্পন্ন দেখাচ্ছে না। বিষয়টি স্যারদের জানালে তাঁরা তদন্তের আশ্বাস দেন।’
আরেক শিক্ষার্থী সৌমেন বলেন, ‘প্রথম সেমিস্টার থেকেই আমরা দাপ্তরিকভাবে তাঁর কাছেই টাকা দিয়েছি। তিনি এভাবে আমাদের ফি আত্মসাৎ করবেন, সেটা আমরা কল্পনাও করিনি।’
একই বিষয়ে কোর্স কো-অর্ডিনেটর প্রফেসর এস এম জাহিদুর রহমান বলেন, ‘আমাদের স্বাক্ষর জাল করে চেক জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক থেকে টাকাগুলো সরানো হয়েছে। বিষয়টি এখন তদন্তাধীন।’
অভিযোগ ওঠার পর থেকেই সহকারী রেজিস্ট্রার ইউসূফ রায়হান কর্মস্থলে অনুপস্থিত। তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।