হোম > সারা দেশ > খুলনা

লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে দেশে বিশেষ অভিযান শুরু হচ্ছে: র‍্যাবের মহাপরিচালক

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা 

র‍্যাব-৬ এর সদর দপ্তরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশ। ছবি: আজকের পত্রিকা

চব্বিশের আন্দোলন চলাকালে পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনীর লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে সারা দেশে বিশেষ অভিযান শুরু করবে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। অস্ত্র উদ্ধারে ইতিমধ্যেই র‍্যাবকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশ।

আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে র‍্যাব-৬-এর সদর দপ্তরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান মো. আহসান হাবীব পলাশ। সুন্দরবনের ৫৯ জন বনদস্যুর আত্মসমর্পণ, অস্ত্র উদ্ধার, খুলনাসহ সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এ প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।

অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য প্রদানকারীদের পুরস্কার প্রদানের পাশাপাশি নাম-পরিচয় গোপন রাখা হবে। অলরেডি কাজ শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেন র‍্যাব প্রধান।

র‍্যাবের ডিজি বলেন, আত্মসমর্পণ করা সুন্দরবনের দস্যুরা আবার সেই জীবনে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলেছেন। ২০১৬ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত আত্মসমর্পণকারী ৩২৮ জন দস্যুর মধ্যে ৩০ জন পুনরায় অস্বাভাবিক জীবনে ফিরে গেছেন। এর মধ্যে উপস্থিত আত্মসমর্পণকারী ৮ জন রয়েছেন।

আহসান হাবীব পলাশ আরও বলেন, ‘সামাজিক-রাজনৈতিক কারণ ও হয়রানি হওয়ার ভয় ইত্যাদি কারণে তাঁরা অপরাধ কর্মকাণ্ডে ফিরে যান। এ ছাড়া কিছু মানুষের অপরাধ প্রবণতা থাকে। তবে সার্বিকভাবে র‍্যাবের সাফল্য উল্লেখযোগ্য। যাঁরা আত্মসমর্পণ করেছেন বা করবেন, তাঁদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে গতবার যে আর্থিক ব্যবস্থা ছিল, তার থেকে আরও কার্যকর ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে কথা বলেছি। যাঁরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন, তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

র‍্যাবের মহাপরিচালক আরও বলেন, ‘সুন্দরবনে শান্তি ফিরিয়ে আনাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা সন্ত্রাসী-অপরাধীদের সম্পর্কে খোঁজ খবর রাখছি। অপরাধীদের অর্থ জোগানদাতা, আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদের কেউই পার পাবে না।’

খুলনার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মারাত্মক খারাপের বিষয়টি নজরে আনা হলে র‍্যাবের ডিজি বলেন, খুলনার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের বিষয়ে কাজ করছি। ইতিমধ্যেই সরকারের কাছ থেকে বিশেষ নির্দেশনা পেয়েছি। সে অনুযায়ী কাজ হচ্ছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে র‍্যাবের ডিজি জানান, আত্মসমর্পণ করা ৫৯ জনের মধ্যে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১৬ জন, আনরুল বাহিনীর ১৩ জন, আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনীর ১৫ জন, আফতার বাহিনীর ৮ জন এবং মিজান বাহিনীর ৭ জন রয়েছেন।

র‍্যাবের ডিজি আরও জানান, সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে র‍্যাব। উদ্ধার করা হয়েছে ৫৯টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫৪১ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৪টি খালি কার্তুজ ও ৭টি ওয়াকিটকি।

উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ৪টি শটগান, ৪৭টি ওয়ান শুটার গান, ৪টি পাইপগান, ৩টি এয়ারগান এবং একটি পয়েন্ট ২২ বোর রাইফেল।

র‍্যাব বলছে, সুন্দরবনের জলদস্যু ও বনদস্যু দমনে র‍্যাব, কোস্ট গার্ড, স্থানীয় প্রশাসন, নৌ পুলিশ ও বন বিভাগের সমন্বয়ে ‘অপারেশন রি-স্টার্ট, পিস ইন সুন্দরবন’ নামে বিশেষ অভিযান চলছে। গত ২ মার্চ থেকে ধারাবাহিকভাবে এ অভিযান চালানো হচ্ছে।

র‍্যাব মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ জানান, সুন্দরবনে বর্তমানে চার থেকে পাঁচটি দস্যু বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। এসব বাহিনীর সদস্যদের অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর চেষ্টা চলছে।

র‍্যাবের ডিজি বলেন, ‘আমরা ১০০ শতাংশ তো আর আনতে পারব না। যেহেতু আমরা তাদের সার্বক্ষণিক নজরদারি করতে পারি না। আর কিছু বাস্তব সীমাবদ্ধতাও থাকে। র‍্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। আত্মসমর্পণের পর কেউ আবার অপরাধে জড়াচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’

সুন্দরবনের নিরাপত্তা জোরদারে সেখানে একটি র‍্যাব ব্যাটালিয়ন গঠন করার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন আহসান হাবীব পলাশ। তিনি বলেন, বর্তমানে সুন্দরবন এলাকায় কোস্টগার্ডের একটি ক্যাম্প রয়েছে। সুন্দরবনবাসী চাইলে সেখানে র‍্যাবের একটি ব্যাটালিয়ন গঠনের জন্য সরকারের কাছে আবেদন করা যেতে পারে।