ঝিনাইদহ সরকারি কেশব চন্দ্র (কেসি) কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে উত্তেজনার পর আগামীকাল বৃহস্পতিবার সব শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে সব ধরনের সভা, সমাবেশ ও রাজনৈতিক কর্মসূচি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মাসরুর উল আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার অনুষ্ঠিত কলেজের ১১৬তম একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ক্যাম্পাসে সব ধরনের সভা, সমাবেশ ও রাজনৈতিক কর্মসূচি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে বৃহস্পতিবার সব শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার দুপুরে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। এর মধ্যে শহরে পাল্টাপাল্টি মিছিল করে ছাত্রদল ও শিবির।
এদিকে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকালে কেসি কলেজ ক্যাম্পাসে শিবিরের উদ্যোগে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজনের কথা ছিল। কলেজ ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মসূচি নিষিদ্ধ করায় ওই অনুষ্ঠান আয়োজন নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
কেসি কলেজ শাখা শিবিরের সভাপতি মাহবুব ইসলাম বলেন, কয়েক দিন ধরে ক্যাম্পাসে শিবিরের উদ্যোগে নবীনবরণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে। এ জন্য অতিথিদের আমন্ত্রণও জানানো হয়েছে। সোমবার ছাত্রদলের সঙ্গে ঝামেলার পর কলেজ প্রশাসন বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। প্রশাসনের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ রাখছি। অনুমতি দিলে অনুষ্ঠান হবে, না দিলে হবে না।
অন্যদিকে কেসি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি বাবর আলী মাহফুজ বলেন, শিবিরের এক কর্মী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কটূক্তি করে ফেসবুকে পোস্ট করেন। তাঁরা শিবির নেতাদের পোস্টটি মুছে ফেলতে বলেন। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে কলেজ প্রশাসনের সঙ্গে বসে বিষয়টির সমাধান করা হয়েছে।
সভাপতি আরও বলেন, শিবির কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। তারা অনুষ্ঠান করবে কি না, সেটি তাদের বিষয়। এ নিয়ে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। শিবিরের যে ঝামেলা হয়েছে, সেটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নয়। বর্তমানে কলেজ ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মাসরুর উল আলমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে তাঁর মোবাইল ফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়েও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।