খুলনা নগরীর লবণচরা থানাধীন শিশু বাগান আশি বিঘা এলাকায় নাজমুল (১৯) নামের এক যুবককে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যার পর দুর্বৃত্তরা সেখানে লাশ ফেলে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ বুধবার রাত পৌনে ১০টার দিকে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
এর আগে সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে লবণচরা থানার হরিণটানা এলাকায় মো. মনজুরুল ইসলাম (২২) নামের এক যুবককে ছুরিকাঘাত ও গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। মাত্র চার ঘণ্টার ব্যবধানে দুজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় খুলনা নগরে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, লবণচরা থানার শিশু বাগান এলাকায় মনির হোসেনের ছেলে নাজমুলের রক্তাক্ত লাশ পাওয়া যায়। লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। আমরা দ্রুত আসামিদের ধরতে তৎপর রয়েছি।’
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, লবণচরা থানার হরিণটানার আশি বিঘা এলাকায় বালুর মাঠে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র একটি পক্ষের সঙ্গে মো. মনজুরুল ইসলামের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে মো. মনজুরুল ইসলামকে আশি বিঘা কালভার্টের কাছে পেয়ে ওই পক্ষ তাঁর পেটে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। পরে তাঁর বাম পায়ে গুলি করে। ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা মো. মনজুরুল ইসলামকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। চার ঘণ্টার ব্যবধানে দুই খুনের ঘটনায় খুলনা নগরে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, খুলনা শহরে এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে। অবিলম্বে খুলনাকে সন্ত্রাসকবলিত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করে বিশেষ বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। তিনি বলেন, সন্ত্রাসীদের তালিকা ধরে ধরে গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে। অভিযান চালিয়ে সন্ত্রাসীদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করতে হবে। তা হলেই খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে।
খুলনা সদর থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, লবণচরা এলাকা থেকে দুই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুমেক হাসপাতালে এবং অপরজনের মরদেহ সিআইডির টিম এলে সুরতহালের পরে ময়নাতদন্তের জন্য খুমেকে পাঠানো হবে। যারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।