খুলনার বটিয়াঘাটায় উদ্ধার হওয়া গলাকাটা মরদেহটি ইজিবাইকচালক সজীব হাওলাদার ওরফে রাজনের বলে শনাক্ত করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার এ ঘটনায় গ্রেপ্তার রিয়াজুল ইসলাম রাজ নামের এক যুবক আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, রাজনের ইজিবাইক ছিনিয়ে নিতেই তাঁকে হত্যা করা হয়।
বটিয়াঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মারুফ হোসেন বলেন, গতকাল বুধবার রাতেই নিরালা পুলিশ ফাঁড়ির সামনে থেকে রিয়াজুল ইসলাম রাজকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি নিহত রাজনের নিকটতম আত্মীয়।
ওসি আরও বলেন, এ হত্যাকাণ্ডে চারজনের সরাসরি জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। কোদাল দিয়ে মাথায় আঘাত করে রাজনকে হত্যা করার পর তাঁর ইজিবাইকের ব্যাটারি খুলে নিয়ে অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ বেলা ৩টায় গ্রেপ্তার রিয়াজুল ইসলাম রাজকে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক অপূর্ব বালার আদালতে হাজির করা হয়। পরে সন্ধ্যায় তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
এর আগে গতকাল সন্ধ্যায় বটিয়াঘাটা উপজেলার জলমা ইউনিয়নের তেতুলতলা আশিক সড়কের একটি প্লট থেকে রাজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আজ দুপুরে সোনাডাঙ্গা মডেল থানার গোবরচাকা এলাকার শাহাবড়ি রোডের সৈকত ম্যানশনের নিচতলায় রাজনকে একনজর দেখার জন্য স্থানীয় মানুষের ভিড় দেখা যায়। সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিরা হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি জানান।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে শোকাহত মা শাহীদা বেগম রাজনের দেড় বছরের শিশুসন্তানকে কোলে নিয়ে ছেলের মরদেহের পাশে বসে কাঁদছিলেন।
নিহত রাজনের স্ত্রী রূপা বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতে রাজ শিকদার নামের এক যুবক রাজনকে ফোন দেয়। উত্তরে রাজন জানায়, এত রাতে বাড়ি থেকে বের হওয়া যাবে না। সকালে দেখা হবে। পরের দিন বুধবার ইজিবাইক চালানোর উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে সে আর ফিরে আসেনি। ওই রাতেই তার মৃত্যুর সংবাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পারলাম। তারা শুধু আমার স্বামীকে মারেনি, একটা পরিবারকে পথে বসিয়ে দিয়েছে। স্বামীর হত্যার বিচার চাই।’