সুন্দরবনে দস্যুতা দমনে ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ চালিয়েছে কোস্ট গার্ড। এক বছরব্যাপী চালানো এই অভিযানে করিম শরীফ, নানা ভাই, ছোট সুমন, আলিফ, দুলাভাই, আসাবুর বাহিনীসহ বিভিন্ন দস্যু বাহিনীর ৪০ সদস্যকে আটক করা হয়েছে।
আজ রোববার (৩ মে) বিকেলে কোস্ট গার্ডের গণমাধ্যম কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এক বছরে সুন্দরবনে অভিযান চালিয়ে ৪৩টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০টি গোলা, ১৮৬টি কার্তুজ, ২৯৯টি কার্তুজের খোসা, দুটি হাতবোমাসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ডাকাত বাহিনীর কয়েকটি আস্তানা শনাক্ত করে সেগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ সময়ে অপহৃত ৩৭ জন জেলে, দুজন পর্যটক ও একজন রিসোর্টমালিককে উদ্ধার করে তাঁদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সাব্বির আলম সুজন বলেন, সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় সব বনদস্যুর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এর অংশ হিসেবে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রি-স্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামের দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত করতে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের যৌথ অভিযান অব্যাহত রাখবে।
কোস্ট গার্ডের গণমাধ্যম কর্মকর্তা জানান, বিশেষ অভিযানের ধারাবাহিকতায় আজ কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী, পুলিশ ও র্যাবের সমন্বয়ে সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় একটি যৌথ টহল পরিচালনা করা হয়। এ ছাড়া সুন্দরবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ও এর ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের মাঝে বনদস্যু সম্পর্কে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। পাশাপাশি নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা ও তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।