হোম > সারা দেশ > খুলনা

খুলনায় পুলিশ পরিদর্শককে কুপিয়ে জখম, ‘স্পিকার মিরাজ’ ও তাঁর সহযোগী গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা 

গ্রেপ্তার মিরাজ ও তাঁর সহযোগী ইব্রাহিম গাজী। ছবি: সংগৃহীত

খুলনায় পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি ও পরিকল্পনাকারী মিরাজ ওরফে ‘স্পিকার মিরাজ’ ও তাঁর এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি। আজ বৃহস্পতিবার নগরীর পৃথক দুটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার মিরাজ (৩৯) নগরীর হাজী মহসিন রোড এলাকার ফারুক মিয়ার ছেলে। গ্রেপ্তার অন্য আসামি মো. ইব্রাহিম গাজী (৪২) নগরীর টুটপাড়ার সরকারপাড়া এলাকার মৃত আকবর আলীর ছেলে।

এসআরবি-৬-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ জানান, সোনাডাঙা থানার কলাবাগান ও সদর থানার টুটপাড়া এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। মিরাজের বিরুদ্ধে কেএমপির আড়ংঘাটা ও সদর থানায় চুরি ও ডাকাতির একাধিক মামলার তথ্য রয়েছে। তাঁর সহযোগী ইব্রাহিম গাজীর বিরুদ্ধেও সদর থানায় মাদকের মামলা রয়েছে।

নিস্তার আহমেদ আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁদের খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ৯ অক্টোবর গভীর রাতে খুলনা জেলার সার্কেল অফিসে কর্মরত পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) শাহ আলম (৪৩) রিকশায় করে পুলিশ ক্লাবে যাচ্ছিলেন। নগরীর কলেজিয়েট স্কুলের সামনে পৌঁছালে তিন ছিনতাইকারী তাঁর পথরোধ করে। এ সময় তারা শাহ আলমের কাছে থাকা নগদ টাকা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে ধারালো চাপাতি দিয়ে তাঁর দুই হাতের কবজির ওপর আঘাত করে পালিয়ে যায়।

পরে খুলনা সদর থানার ওসি ও সোনাডাঙা থানার মোবাইল টিমের সহায়তায় শাহ আলমকে উদ্ধার করে প্রথমে সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাতের আঘাত গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য সেখানকার সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকেরা তাঁকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।

এ ঘটনায় জেলা গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আওয়াল হোসেন বাদী হয়ে খুলনা সদর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ ঘটনার পর খুলনা নগরে রাতে পুলিশ সদস্যদের একা চলাচল না করার নির্দেশ দেয় জেলা পুলিশ।