খুলনার কয়রা উপজেলার শাকবাড়িয়া নদীর চরে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৭০ কেজি হরিণের মাংস উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। গতকাল রোববার রাতে উপজেলার ৬ নম্বর কয়রা পন্টুনের পূর্ব দিকের চরে বন বিভাগের সদস্যরা এ অভিযান চালান। এ সময় নৌকা, দা ও পলিথিন জব্দ করা হয়। তবে অভিযান টের পেয়ে শিকারি ও পাচারকারী চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
আজ সোমবার আদালতের নির্দেশে মাংস মাটি চাপা দিয়ে বিনষ্ট করা হয়। এ ঘটনায় কয়রার আদালতে বন আইনে মামলা করেছেন কাশিয়াবাদ স্টেশন কর্মকর্তা ডেপুটি রেঞ্জার মো. নাসির উদ্দীন।
বন বিভাগ সূত্র জানায়, সুন্দরবন থেকে হরিণ শিকার করে পাচারের উদ্দেশ্যে লোকালয়ে আনা হচ্ছে, এমন সংবাদের ভিত্তিতে বনরক্ষীদের একটি দল শাকবাড়িয়া নদীর চরে অবস্থান নেয়। বন বিভাগের উপস্থিতি টের পেয়ে হরিণ শিকারি ও পাচারকারী চক্রের সদস্যরা নৌকা থেকে লাফিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনাস্থল থেকে ৭০ কেজি হরিণের মাংস, ২টি হরিণের মাথা, ১টি নৌকা ও শিকারের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
জানতে চাইলে কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা নাসির উদ্দীন বলেন, ‘সুন্দরবন থেকে হরিণ শিকার করে লোকালয়ে নিয়ে আসার পথেই আমরা নদীর চরে অভিযান চালাই। উপস্থিতি টের পেয়ে শিকারিরা গোলবাগানে নৌকা ও মাংস ফেলে পালিয়ে যায়। তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।’
জব্দ মাংস ও অন্যান্য মালামাল কয়রা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হস্তান্তর করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে হরিণের মাংস মাটি চাপা দিয়ে বিনষ্ট করা হয়েছে। এ ঘটনায় বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে মামলা করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
এদিকে সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের অধীন কোবাদক স্টেশনের বনরক্ষীরা অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ সময়ে কাঁকড়া শিকারের অপরাধে ৩ জেলেকে আটক করে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ৩টি নৌকা, কাঁকড়াসহ কাঁকড়া ধরার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
গত শনিবার বিকেল ৪টার দিকে সন্ন্যাসীর খাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। আটক জেলেরা হলেন রবিউল ইসলাম, ফারুক সরদার ও শাহানুর সরদার। অভিযান পরিচালনা করেন কোবাদক ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আনিসুর রহমান।
সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান বলেন, এ ব্যাপারে বন আইনে মামলা করা হয়েছে। আটক তিন জেলেকে কয়রা উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।