খুলনার রূপসায় ছেলে জয় ঢালীকে গলা কেটে হত্যার ৫১ দিনের মাথায় তাঁর বাবা আক্তার ঢালীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। আজ সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার দুর্জনীমহল শহীদের মোড়ের ঢালী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আক্তার ঢালী ওই এলাকার মতলব ঢালীর ছেলে। গত ১৫ আগস্ট রাতে ছেলে জয় ঢালীকে গলা কেটে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলার বাদী ছিলেন তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, আজ সন্ধ্যায় বাড়ির পাশে কাঠের বেঞ্চে আরও কয়েকজনের সঙ্গে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন আক্তার ঢালী। এ সময় তিন থেকে চারটি মোটরসাইকেলে করে হেলমেট পরা সাত থেকে আটজন ব্যক্তি সেখানে আসেন। তাঁরা খুব কাছ থেকে আক্তারকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। একটি গুলি তাঁর ডান কান ভেদ করে বিপরীত দিক দিয়ে বের হয়ে যায়।
এরপর আতঙ্ক সৃষ্টি করতে দুর্বৃত্তরা আরও তিন রাউন্ড গুলি ছোড়ে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান। এ সময় উপস্থিত লোকজন ছোটাছুটি শুরু করেন। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দারা গুরুতর আহত আক্তারকে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৫ আগস্ট রাতে শহীদের মোড়ে জয় ঢালীকে গলা কেটে ও কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ওই ঘটনায় তাঁর বাবা আক্তার ঢালী বাদী হয়ে মামলা করেন। সেই হত্যাকাণ্ডের ৫১ দিনের মাথায় বাড়ির পাশেই আক্তারকে গুলি করে হত্যা করা হলো।
গুলিতে নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে খুলনা জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক বলেন, হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে পুলিশের কাছে বিভিন্ন ধরনের তথ্য-উপাত্ত আসছে। সেগুলো বিচার-বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।
এদিকে জয় ঢালীকে হত্যার পর পুলিশ তাঁকে ‘বি’ কোম্পানির সদস্য হিসেবে বললেও আজ এক বিবৃতিতে তাঁকে ছাত্রদল নিজেদের সক্রিয় কর্মী হিসেবে দাবি করেছে।
রূপসা উত্তর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব ও জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক ইমতিয়াজ আলী সুজন স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জয় ঢালী জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রূপসা উত্তর উপজেলা শাখার সক্রিয় কর্মী ছিলেন। গত ১৫ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ির পাশে শহীদের মোড়ে ‘চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিদের’ হাতে তিনি নিহত হন বলে দাবি করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে জয় ঢালীর ভূমিকা ছিল। আন্দোলন করতে গিয়ে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন। ২০২৩ সালের ৬ ডিসেম্বর বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা মামলায় জয় ঢালী ২৬ নম্বর ও তাঁর বাবা আক্তার ঢালী ৩০ নম্বর আসামি ছিলেন। ওই মামলায় তাঁরা ২৫ দিন করে কারাগারে ছিলেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। জয় ঢালীর বড় ভাই লিটু ঢালীও একই মামলার আসামি ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।
ছাত্রদলের বিবৃতিতে জয় ঢালী হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।