হোম > সারা দেশ > খুলনা

‘শেখ বাড়ি’ এখন পোকামাকড় ও সাপের বসতি

কাজী শামিম আহমেদ, খুলনা

গণ-অভ্যুত্থানের পর কয়েক দফায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাটের পর এখন ভুতুড়ে অবস্থা ‘শেখ বাড়ি’র। গত বুধবার খুলনা নগরের প্রাণকেন্দ্র শের-ই-বাংলা রোড থেকে তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা

খুলনা নগরের প্রাণকেন্দ্র শের-ই-বাংলা রোডে ছোট একটি ‘প্রাসাদ’। এটি ‘শেখ বাড়ি’ নামেই পরিচিত। বিগত ১৬ বছর ধরে এই বাড়ি থেকে খুলনার রাজনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, ঠিকাদারি, নিয়োগ, বদলি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রিত হতো। এটি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচা প্রয়াত শেখ আবু নাসেরের বাড়ি।

২০২৪ সালের ৪ ও ৫ আগস্ট দুই দিন এবং পরে এক বছরের মধ্যে কয়েক দফা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাটের পর এখন ভুতুড়ে অবস্থা বাড়িটির। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া শেখ বাড়িতে এখন সাপ, কুকুর, বিড়াল ও পোকামাকড়ের বসতি। বাড়ির আঙিনা এখন পিকআপ ও প্রাইভেট কারের অস্থায়ী স্ট্যান্ড হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

গত বুধবার দুপুরে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়িটির এক পাশে ফার্নিচার তৈরির কাঠ শুকানো হচ্ছে। অন্য পাশে বসানো হয়েছে অস্থায়ী চায়ের স্টল।

বাড়িটির ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, লতাপাতায় ঘিরে বাড়িটিতে ভৌতিক অবস্থা বিরাজ করছে। চব্বিশে গণ-অভ্যুত্থানের পরপর ধ্বংসস্তূপ বাড়িটি দেখতে উৎসুক জনতার যে ভিড় ছিল, তা এখন আর নেই। আশপাশের বাসিন্দারাও বাড়িটির দিকে তেমন পা মাড়ান না।

সেখানে কথা হয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো. হৃদয়ের সঙ্গে। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৪ ও ৫ আগস্ট শেখ বাড়িতে হামলা চালায় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। সেখানে আগুন ধরিয়ে সব আসবাব পুড়িয়ে দেওয়া হয়। বড় বড় হাতুড়ি, শাবল দিয়ে তিনতলা ভবনটি ভেঙে তছনছ করা হয়। বস্তাভর্তি টাকা প্রকাশ্যে পুড়িয়ে ফেলা হয়।

হৃদয় আরও জানান, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ঢুকে পড়ে সুযোগসন্ধানীরা টাকাভর্তি সিন্দুক, আলমারি, স্বর্ণালংকার, টিভি, ফ্রিজ, এসিসহ মূল্যবান আসবাবপত্র নিয়ে যায়। পরে ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ফেসবুকে ভারতে থাকা শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আরেক দফা আক্রান্ত হয় শেখ বাড়িটি। ওই দিন বুলডোজার নিয়ে বাড়িটির বড় অংশ ভেঙে ফেলে ছাত্র-জনতা।

হৃদয় বলেন, আগস্টের গণ-অভ্যুথানের চূড়ান্ত বিজয়ের আগেই শেখ পরিবারের সদস্যরা সেখান থেকে আত্মগোপনে চলে যান। বাড়িটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার পর কেয়ারটেকার ও নিরাপত্তাকর্মীদের আর দেখা যায়নি।

হৃদয় জানান, তিন মাস আগে শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই ও সাবেক সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিনের ছেলে বাগেরহাট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ তন্ময়ের ঘনিষ্ঠ রাফসান নামের এক যুবক এসেছিলেন। তিনি সপ্তাহখানেক খুলনার একটি অভিজাত হোটেলে থেকে প্রায় প্রতিদিন এই বাড়িতে আসতেন। পথচারীদের মলমূত্র ত্যাগ না করার অনুরোধ করতেন। এরপর আর কেউ বাড়িটির খোঁজখবর রাখেননি।

বাড়িটির এক কোনে চায়ের স্টল দিয়ে বসা শেখ মো. মহসীন বলেন, ওই এলাকায় দীর্ঘ ৫৯ বছর মুদিদোকানের ব্যবসা করেছেন। এখন আর শরীরে কুলোয় না, সে কারণে ফাঁকা জায়গায় অস্থায়ী চায়ের স্টল দিয়েছেন। তিনি বলেন, এই বাড়িতে এখন শেখ পরিবারের কেউ আসেন না।

ওই বাড়ির বিষয়ে জানতে চাইলে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমি ওই সময় খুলনায় ছিলাম না। তাই ওই পরিবারের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বলতে পারব না। তবে শুনেছি, ওই পরিবারের অনেকের নামে থানায় ও দুদকে মামলা হয়েছে। এসব মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

খুলনায় ট্রাকচাপায় শিশুসহ একই পরিবারের ৩ জন নিহত

মোবাইলের আসক্তি নয়, নতুন প্রজন্মকে বইমুখী করার আহ্বান

খুলনায় যুবককে লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তদের গুলি, মৃত্যু নিশ্চিতে মাথায় উপর্যুপরি কোপ

খুলনার ময়ূর আবাসিক এলাকার লেক থেকে মাদ্রাসাছাত্রের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের নতুন কমিশনার সাজ্জাদুর রহমান

খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক আসাদুজ্জামান সরকার

খুলনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘গ্রেনেড বাবুর’ ৩ সহযোগী গ্রেপ্তার

খুলনায় দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী জাকির শেখের ছেলে গ্রেপ্তার

খুলনায় যুবককে গুলি করে হত্যা

খুলনায় হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড