হোম > সারা দেশ > খাগড়াছড়ি

শিক্ষকের নির্দেশে দুই শিক্ষার্থীকে সহপাঠীদের ‘গণহারে থাপ্পড়’, ঘটনা তদন্তে কমিটি

মানিকছড়ি (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি 

শিক্ষক নাঈমুল হক। ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও শ্রেণিকক্ষে কথা বলায় শাস্তি হিসেবে অষ্টম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থীর গালে ‘গণহারে থাপ্পড়’ দেওয়ার নির্দেশ দেন শিক্ষক। আর এই থাপ্পড় দিতে হয়েছে তাদের ৭২ সহপাঠীকে। লজ্জা ও অস্বস্তিতে কেউ আস্তে থাপ্পড় দিলে তাকে জোরে থাপ্পড় দিতে বাধ্য করেন ওই শিক্ষক। গত বৃহস্পতিবার খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার রাণী নীহার দেবী সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম নাঈমুল হক। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিভাবক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ জানালে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর সিনিয়র শিক্ষক নাঈমুল হকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ ওঠে অষ্টম শ্রেণির ওই দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এর পরদিন তিনি শাস্তি হিসেবে ওই শ্রেণির ৭২ শিক্ষার্থীকে তাদের গালে চড় মারার নির্দেশ দেন। শ্রেণিকক্ষে সহপাঠীদের এমন শাস্তিতে অপমান বোধ করে দুই শিক্ষার্থী।

ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, ‘আমার মেয়ে বেয়াদবি বা অপরাধ করলে শিক্ষক নিজেই বিচার করবেন। সহপাঠী দিয়ে চড়-থাপ্পড়ে শায়েস্তা করতে পারেন? এতে আমার মেয়ে চরম অপমান বোধ করেছে। ভাগ্যিস মেয়েটি কষ্ট পেলেও অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো দুর্ঘটনা না ঘটিয়ে হজম করেছে। আমি এর বিচার চাই।’

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আতাউল্লাহ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অপ্রত্যাশিত ঘটনার জন্য আমি দুঃখিত।’

ঘটনা তদন্তে ইউএনও তাহমিনা আফরোজ ভূঁইয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক ও উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজারকে সদস্যসচিব করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটি আজ মঙ্গলবার বিদ্যালয়ে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক, অভিযুক্ত শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকের বক্তব্যও নেওয়া হয়।

উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার রেহানা মোস্তফা বলেন, শিক্ষকের নির্দেশে ৭২ সহপাঠীর মাধ্যমে দুই শিক্ষার্থীকে চড়-থাপ্পড় দেওয়ার অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ সরেজমিনে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। আগামীকাল বুধবার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষক নাঈমুল হক বলেন, ‘এটা আমার ভুল হয়েছে, অন্যায় হয়েছে। এ ঘটনার জন্য আমি অনুতপ্ত।’